
অনলাইন ডেস্ক ►
মুকুলে ঠাসা আমগাছগুলো। কোনো কোনো ডাল নুয়ে পড়ছে। গাছতলায়; এমনকি দূরেও ম-ম গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজশাহী অঞ্চলে এবার প্রায় সব আমবাগানের চিত্র এ রকম। চাষি ও কৃষি বিভাগ বলছে, ইতিমধ্যে বাগানগুলোর প্রায় ৬৩ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার কাটাবাড়ি গ্রামের চাষি দেলোয়ার হোসেন জানান, ৩০ বিঘা জমিতে তাঁর আমবাগান আছে। সাধারণত জাতভেদে একে একে গাছে মুকুল আসে। এবার প্রায় সব গাছেই একই সময় মুকুল চলে এসেছে। হঠাৎ এবার কেন এমন হলো, তা বুঝতে পারছেন না।
জানতে চাইলে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার শীত খুব সুন্দরভাবেই শেষ হয়েছে। শেষের দিকে কোনো কুয়াশা ছিল না। বৃষ্টিও হয়নি। তাপমাত্রাটা বেড়েছে ধীরে ধীরে। হঠাৎ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি কিংবা কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ফলে গাছ মুকুল দেওয়ার সিদ্ধান্ত ধরে রাখতে পেরেছে।’
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার আবহাওয়া মুকুলের জন্য একেবারেই উপযোগী ছিল। তা ছাড়া গতবার মুকুল একটু কম এসেছিল। যেসব গাছে মুকুল কম ছিল, সেগুলোতেও এবার মুকুল এসেছে। এ কারণে প্রচুর মুকুল দেখা যাচ্ছে। এখন চাষিদের গাছে সেচ দিতে হবে। আর মুকুল আসার পর একবার ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। তাহলে মুকুল টিকে যাবে।’
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকার একটি আমবাগানে গিয়ে দেখা যায়, মুকুলের ভারে ছোট ছোট গাছের ডাল নুয়ে পড়েছে। বাগানি মো. রাজিব বলেন, ‘এবার কুয়াশা আর বৃষ্টি না থাকার কারণে প্রচুর মুকুল ধরেছে। তবে ফাল্গুন মাস এখনো শেষ হয়নি। যেকোনো সময় ঝড়-ঝাপটা আসতে পারে। এমন হলে কিছু মুকুল ঝরবে। তারপরও গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছে, তাতে এবার ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।’
আম উৎপাদনকারী আরেক জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জেও এবার গাছে গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের চাষি ইসমাইল খান বলেন, ‘আল্লাহ এবার প্রচুর মুকুল দিয়েছে। গত বছর মুকুল কম আসার কারণে চাষিরা বেশি করে পরিচর্যা করেছেন। পাশাপাশি আবহাওয়াও ভালো। দুই কারণে এবার প্রচুর মুকুল এসেছে। ফলনও ভালো হবে।’
রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। গাছের সংখ্যা ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৪টি। ইতিমধ্যে ৬৩ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। গত মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টন, নওগাঁয় ৪ লাখ ৩২ হাজার টন, রাজশাহীতে ২ লাখ ৬০ হাজার টন এবং নাটোরে ১ লাখ ৩৪ হাজার টন আম উৎপাদন হয়েছে। এবার উৎপাদন আরও বেশি হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমের ফলন এবার খুবই ভালো হবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি এবার যাতে চাষিরা আম রপ্তানি করতে পারেন, সে লক্ষ্যেও কাজ চলছে। প্রতিটা উপজেলায় এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। আশা করছি এবার রপ্তানিও হবে।’