
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর ►
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বাজারে বেগুন, লেবু, শসা ও কলার দাম কিছুটা চড়া থাকলেও শীতকালীন অধিকাংশ সবজির দাম সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে ছোলা বুট, চিনি, সয়াবিন তেল ও বেসনের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে বলে বাজার ঘুরে দেখা গেছে।
রবিবার রাতে শহরের বাহাদুর বাজারের এন এ মার্কেট সবজি বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও চতুর্থ রমজানে এসে বেশ কিছু সবজির দাম নিম্নমুখী হয়েছে। এতে ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাজারে প্রতি হালি সবরি কলা আকার ভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং শসা ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের দাম তুলনামূলক বেশি-কেজি প্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। টমেটো ও গাজর কেজি প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি আকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে।
অন্যদিকে আলু কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা, ফুলকপি প্রতিটি ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং সিম কেজি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাঁধাকপি ও ফুলকপির দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। নিত্যপণ্যের মধ্যে ছোলা বুট বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। ভালো মানের বেসন ১২০ টাকা, মুসুর ডাল ১৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং চিনি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ২০০ টাকা এবং বোতলজাত ১ লিটার তেল ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “রমজানের শুরুতে দাম একটু বেশি ছিল, এখন কিছু সবজির দাম কমেছে-এতে আমাদের জন্য একটু স্বস্তি হয়েছে। আরেক ক্রেতা শাহিনা বেগম বলেন, “লেবু, শসা আর মরিচের দাম এখনো বেশি। এগুলো কমলে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো হয়। সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, “রমজানের প্রথম দিকে চাহিদা বেশি থাকায় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছিল। এখন সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। অপর বিক্রেতা জাহিদ হোসেন বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় এসবের দাম সহনশীল আছে।
ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, বাজার নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমাদের তদারকি অব্যাহত থাকবে। সামগ্রিকভাবে কিছু পণ্যের দাম চড়া থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম সহনীয় থাকায় দিনাজপুরের বাজারে স্বস্তির আভাস দেখা যাচ্ছে।