Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২০-৯-২০২৬, সময়ঃ বিকাল ০৫:৩৯
  • ১৩৫ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৩০জন, দুই গ্রামে আতঙ্কে

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৩০জন, দুই গ্রামে আতঙ্কে

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটী গ্রামে রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস কাটাকাটি করায় একই গ্রামের ২৫ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ভর্তি রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার সকালে। সেই সাথে গত ৩১ আগষ্ট কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুলাল গ্রামে রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস কাটাকাটি করায় ঘটনায় একই গ্রামের ৫ জন অ্যানথ্রাকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অ্যানথ্রাক্সের এই প্রার্দুভাব দেখা দেয়ায় দুই গ্রামে আতঙ্ক রিবাজ করছে। যারা এই রোগাক্রান্ত গরুর মাংস খেয়েছেন তাদের পরিবারের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার কে এম ইফতেখারুল ইসলাম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কামরুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয়দের নিকট থেকে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটী গ্রামের মো. মঞ্জুরুল ইসলামের বিদেশী জাতের একটি গরু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরে।

পরদিন শুক্রবার সকালে গরুটি স্থানীয়ভাবে জবাই করে কমপক্ষে ১০০ জন গ্রামবাসীর নিকট মাংস বিক্রি করেন। এর একদিন পরেই ওই গ্রামের অন্তত ১০ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ ফোঁসকা দেখা দেয়। তাৎক্ষনিক ভাবে তারা হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেন এবং নমুনা পরীক্ষা করান। এতে তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। গতকাল রোববার পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা নিয়েছেন।

এরা হলেন, বাছহাটী গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীন, মো. গোলেজার রহমান, মো. নুর আকাইদ, মোছা. রুমি বেগম, মোছা, রশিদা বেগম, মো. সুলতান মিয়া, মোছা, রাহেলা বেগম, মোছা. শরিতন নেছা, মোছা. দেলেনা বেগম, মো. জয়নাল আবেদীন, মোছা. জেলী বেগম, মোছা. ফুলমতি বেগম, মোছা. রাবেয়া বেগম, মো. আজমিন মিয়া, মোছা. ফাহিমা বেগম, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. শফিয়াল মিয়া, মো. আব্দুর রশিদ, মো. চান্দ মিয়া, মো. আব্দুল জলিল মিয়া, মোছা. লাবনী আকতার, মোছা. রোশনা বেগম, মোঃ আব্দুল মজিদ মিয়া, মোছা. মিসকিনা বেগম।

এদিকে গত ৩১ আগষ্ট আক্রান্ত হয়ে যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা হলেন মো. জাহেদুল ইসলাম, মো. খাইরুল ইসলাম, মো. আজগার আলী, মো. আবুল হোসেন ও মো. নাজমুল ইসলাম। উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আক্রান্তদের জবানবন্ধি শুনে বিষয়টি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত বলে মনে হয়েছে। আক্রান্তদের সকলকে ডেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন প্রাণি সম্পদ অফিসার। সেই সাথে ওই এলাকার সমস্ত গরু-ছাগলকে অ্যানথ্রাক্স টিকা দেন।

সকল গরু মালিকদের পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি বলেন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর রক্ত যাদের শরীরে লাগবে তাদেরেই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে মাংস যেহেতু অধিক তাপমাত্রা দিয়ে রান্না করা হয়, সেক্ষেত্রে যারা মাংস খেয়েছেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. কামরুল হাসান বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে ২৪ জন ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা একটু খারাপ। তবে এতে ভয়ের কোন কারন নেই। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, বিষয়টিকে গরুত্বসহকারে দেখার জন্য উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ও উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad