Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ১১৪ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

ফুলছড়িতে বিভিন্ন নৌরুটে বাড়তি ভাড়া ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ফুলছড়িতে বিভিন্ন নৌরুটে বাড়তি ভাড়া ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ফুলছড়ি প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নৌঘাট ও নৌপথে যাত্রীভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গজারিয়া-পেপুলিয়াসহ অন্তত ১২টি নৌরুটে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষকে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গজারিয়া ঘাট থেকে ফুলছড়ি ইউনিয়নের পেপুলিয়া, টেংরাকান্দি ও দেলুয়াবাড়ী, ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী ও তালতলা এবং এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নৌকায় যাত্রী পারাপার করা হয়। এসব নৌপথের চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। যাত্রীদের অভিযোগ, গজারিয়া-পেপুলিয়া নৌপথে আগে জনপ্রতি ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তা বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন ঘাট থেকে যাতায়াতেও বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে।

বর্তমানে পেপুলিয়া থেকে ফুলছড়ি ঘাটে ৪০ টাকা, খঞ্চাপাড়া থেকে ৬০ টাকা, ফজলুপুর ঘাট থেকে ৫০ টাকা, দেলুয়াবাড়ী থেকে ৫০ টাকা, বাগবাড়ী থেকে ৫০ টাকা, খোলাবাড়ী থেকে ৬০ টাকা, জিয়াডাঙা থেকে ৪০ টাকা, এরেন্ডাবাড়ী থেকে ২০০ টাকা এবং মইন্যাঘাট থেকে ২০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।

বাজে ফুলছড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী আকবর বলেন, ‘আগে গজারিয়া থেকে পেপুলিয়া যেতে ৩০ টাকা ভাড়া দিতাম। এখন দিতে হচ্ছে ৪০ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে নৌকা চালানোর খরচ বাড়বে, এটা স্বাভাবিক। তবে যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানো কতটা যৌক্তিক, সেটি বিবেচনা করা দরকার।’

আরেক যাত্রী সালমা বেগম বলেন, ‘নদীতে পানি কম থাকলে নৌকায় যেতে চার থেকে পাঁচ মিনিটের মতো সময় লাগে। এরপরও একই ভাড়া দিতে হয়। এখন আবার ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য এটি বাড়তি চাপ। প্রায় একই ধরণের অভিযোগ করেন, ফজলুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদেক আলী, ফুলছড়ির মিজানুর রহমান ও ফরহাদ হোসেনসহ অনেকে।

বুড়াইল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘পড়াশোনার জন্য নিয়মিত নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। আগে যে টাকা লাগত, এখন প্রতিবারই তার চেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি এই ভাড়া বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফুলছড়ি উপজেলা আহ্বায়ক সেকেন্দার আলী বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম নৌকা। এই সুযোগে ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা থাকা দরকার।

অন্যদিকে ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি নৌকায় প্রতিদিন প্রায় সাত লিটার ডিজেল খরচ হয়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে একটি নৌকার দৈনিক জ্বালানি ব্যয় আগের তুলনায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে বলে তাঁদের দাবি।  নৌকার মাঝি মোকছেদ ও মোরশেদ বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নৌকা চালানোর খরচও বেড়েছে। প্রতিদিন তেল কিনতে আগের চেয়ে বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। নৌকা চালানোর অন্যান্য খরচও রয়েছে। এখন যাত্রীর সংখ্যাও কম। এসব বিষয় বিবেচনা করেই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

তবে যাত্রীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এসব নৌপথে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ জন যাত্রী যাতায়াত করেন। জনপ্রতি ১০ টাকা করে ভাড়া বাড়ানো হলে দৈনিক অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। এ হিসাবে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে ভাড়া বাড়ানোর সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এদিকে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad