Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

ঠাকুরগাঁও বুড়ির বাঁধে মাছ ধরার বাঁধভাঙ্গা উৎসব

ঠাকুরগাঁও বুড়ির বাঁধে মাছ ধরার বাঁধভাঙ্গা উৎসব

অনলাইন ডেস্ক ►
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে শুরু হয়েছে জেলার সদর উপজেলার শুক নদের বুড়ির বাঁধে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার উৎসব। সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের মধ্যবর্তী শুক নদীর বুড়ির বাঁধে পানি কমতে শুরু করতেই জাল, পলো ও নানা সরঞ্জাম নিয়ে মাছ শিকারে নেমেছেন হাজারো মানুষ।  নারী-পুরুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে বাঁধ এলাকা পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়। তবে আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার মাছ কম পাওয়ায় অনেকের মধ্যে দেখা গেছে হতাশা।

গতকাল শনিবার রাতে বুড়ির বাঁধের পাঁচটি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়। পানি নেমে যাওয়ার পর আজ রোববার ভোর থেকেই মাছ ধরতে সেখানে ভিড় করেন আশপাশের গ্রামের জেলে ও শৌখিন মাছ শিকারিরা। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও ছুটে আসেন অনেকে। কেউ পলো, কেউ খোচা, আবার কেউ ফিকা জাল, লাফি জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে মাছ ধরায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মাছ ধরার উপকরণ না থাকায় কেউ কেউ কাদাপানিতে নেমে খালি হাতেই মাছ ধরার চেষ্টা করেন।

প্রতিবছর শীতের শুরুতে বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ার পর মাছ ধরার সুযোগ তৈরি হলে আশপাশের এলাকাসহ দূর-দূরান্তের মানুষের সমাগম ঘটে। পরিবার-পরিজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে অনেকে এ উৎসবে অংশ নেন। বুড়ির বাঁধে মাছ ধরা স্থানীয় মানুষের কাছে শুধু মাছ সংগ্রহের উপলক্ষ নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক ঐতিহ্য। তবে এবার মাছের পরিমাণ তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন মাছ শিকারিরা।

তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত রিং জাল ও কারেন্ট জালের কারণে সাধারণ শৌখিন মাছ শিকারিরা আগের মতো মাছ পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রাপ্যতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

ঠাকুরগাঁও শহর থেকে মাছ ধরতে আসা সোহান আলী বলেন, প্রতিবছরই তিনি বুড়ির বাঁধে মাছ ধরতে আসেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের সমাগমে জায়গাটি একদিনের জন্য মেলার রূপ নেয়। সবার সঙ্গে একত্রে মাছ ধরার আনন্দই তাকে বারবার এখানে টেনে আনে। এবার মাছের পরিমাণ কম। রিং জালের ব্যবহার সাধারণ মাছ শিকারিদের প্রাপ্তি কমিয়ে দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, জলকপাট খোলা থাকার কয়েক দিন মাছ ধরার সুযোগ থাকে। তবে প্রথম দিনেই মানুষের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি হয়। তাদের অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে এখানে মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। নির্বিচারে রিং জাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের স্বাভাবিক প্রাপ্যতার ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুল হক বাসসকে জানান, আনন্দের অংশ হিসেবেই তিনি প্রতিবছর শখ করে মাছ ধরতে আসেন। আজ রোববার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাছ ধরে পুঁটি ও টেংরাসহ প্রায় দুই কেজি মাছ পেয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেই মাছ খাওয়ার আনন্দই তার কাছে বড় প্রাপ্তি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠাকুরগাঁও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫১-৫২ সালের দিকে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচের সুবিধা নিশ্চিত করতে শুক নদীতে জলকপাটটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি বুড়ির বাঁধ নামে পরিচিতি পায়। বর্ষা মৌসুমে বাঁধের মাধ্যমে পানি আটকে রেখে আশপাশের উঁচু জমিতে চাষাবাদের সুযোগ তৈরি করা হয়। জলকপাটে জমে থাকা পানিতে প্রতিবছর জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। আকচা ও চিলারং ইউনিয়ন পরিষদ এ মাছের দেখভালের দায়িত্ব পালন করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বাসসকে বলেন, বুড়ির বাঁধ সেচ প্রকল্পটি ১৯৫১-৫২ সালের দিকে নির্মিত হয়। বাঁধের সামনের অংশে একটি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে আটকে রাখা পানিতে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করে। শীতের শুরুতে বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ার পর মাছ ধরার জন্য এলাকাটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাছ ধরার এ ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে বুড়ির বাঁধের উৎসবের আনন্দ যেমন অটুট থাকবে, তেমনি সাধারণ মানুষও মাছ ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন না।

সুত্র: বাসস

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad