Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

প্রতিটি শিশু বেড়ে উঠুক ভয়হীন, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে

প্রতিটি শিশু বেড়ে উঠুক ভয়হীন, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে

প্রকৌশলী কে এম জয়নুল আবেদীন ►
একবার ভাবুন, একটি শিশু স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। সহপাঠীদের কটু কথা, অপমান, শারীরিক নির্যাতন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়ে ধীরে ধীরে তার আত্মবিশ্বাস, আনন্দ ও বেঁচে থাকার স্বাভাবিক উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। দুঃখজনক হলেও এটি পৃথিবীর লাখ লাখ শিশুর বাস্তব অভিজ্ঞতা। আজ ৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, বিদ্যালয়ে সহিংসতা ও নির্যাতন, বিশেষ করে অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস।

ইউনেস্কোর স্বীকৃত এই দিবস আমাদের সমাজের একটি গুরুতর সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানায়। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীর একজন কোনো না কোনোভাবে বুলিং বা সহপাঠীদের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়। প্রতি দশজনের একজন অনলাইন হয়রানির শিকার। ১৩–১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক সহপাঠীদের সহিংস আচরণের অভিজ্ঞতা লাভ করে।এটি শুধু বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার বিষয় নয়; শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার অধিকারের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতি এটি একটি সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান।

শহর থেকে গ্রামের প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিশুরা যেন নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ পায়। অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের শেখাতে হবে, কাউকে উপহাস করা, অপমান করা কিংবা কষ্ট দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য আচরণ নয়—সরাসরি হোক কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

প্রতিটি শিশুর অধিকার রয়েছে ভয়হীনভাবে শিক্ষা গ্রহণের, মর্যাদা নিয়ে বেড়ে ওঠার এবং আনন্দময় শৈশব উপভোগ করার। আসুন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে কোনো শিশু নির্যাতনের শিকার হবে না, কোনো নির্যাতিত শিশু অবহেলিত থাকবে না এবং কোনো শিশুর কান্না নীরবে হারিয়ে যাবে না। শিশুদের সুরক্ষা মানেই আমাদের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা। মানবিক সমাজ গড়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।

লেখক: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ এবং ঢাকাস্থ গাইবান্ধাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad