Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ১০ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

জুয়ায় হেরে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক, গ্রেপ্তার ৬

জুয়ায় হেরে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক, গ্রেপ্তার ৬

নওগাঁ সংবাদদাতা ►
নওগাঁর রাণীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এই তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো রাণীনগরের বিশিয়া গ্রামের স্বপন (২৮) ও হাসান আলী (২৫), ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মকর্তা সুজন (২৭) ও আবু তালেব (২২), অফিস সহায়ক রাসেল বাবু (২২) এবং মোটরসাইকেল মালিক রাব্বি আলী।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দুই ক্যাশিয়ার ও অফিস সহায়ক আদিমদিঘী রেলগেট থেকে ৩৪ লাখ টাকা তুলে আবাদপুকুর বাজার শাখার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে রওনা হন। দুপুর ১টার দিকে রাণীনগরের বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেল তাদের পথরোধ করে। পরে লোহার স্টিক দিয়ে তাদের মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার দিন রাতেই তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রাণীনগর থানা পুলিশ প্রাথমিক ক্লু উদ্ঘাটন করে এবং মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গত ৭ ও ৮ অক্টোবর নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরো বলেন প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় ব্যাংকের অফিস সহায়ক রাসেল, কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া খেলে ৭-৮ লাখ টাকা হেরে যান। গ্রাহকদের জমা না দেওয়া টাকা জুয়ায় উড়িয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়ে তারা স্বপন ও হাসানসহ সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘ এক মাস ধরে এই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে টাকা আনতে যান অফিস সহায়ক রাসেল। টাকা নিয়ে ফেরার সময় রাসেল নিয়মিত গোপনে ছিনতাইকারীদের নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছিলেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্বপন ও হাসান তাদের পথরোধ করে আক্রমণ করে। এ সময় ক্যাশিয়ার নাজমুল প্রকৃত ভিকটিম হওয়ায় তাকে লোহার পাইপ দিয়ে সত্যি সত্যিই মারধর করা হয়, আর টাকা বহনকারী রাসেল ছিলেন সাজানো বা মিথ্যা ভিকটিম।

ছিনতাই হওয়া ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী ১০ লাখ টাকা এবং বাকি টাকা অন্য ছিনতাইকারীরা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে ছিনতাইকারী স্বপন ও হাসানকে প্রাথমিকভাবে দেড় লাখ টাকা দিয়ে দিনাজপুর পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক (ওসি ডিবি) হাসিবুল্লাহ হাসিব, নওগাঁ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান, রাণীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডলসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad