Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

কয়েকটি দল অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী

কয়েকটি দল অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক ►
বিএনপি সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে। একটি জনবহুল দেশে রাজনৈতিক দলের কিছু দুষ্ট লোক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে সেটিকে পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অরাজকতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের কঠোর জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে তিন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজকল্যাণ, কৃষি ও ধর্ম মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল ‘এক দফা, এক দফা’ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসলে তারা কী চায়, জনগণের কাছেও তা স্পষ্ট নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে যারা পালিয়ে গেছে এবং যারা এখনও এক দফার বুলি আওড়াচ্ছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন— আপনারা দেশের উন্নয়ন চান কিনা। বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। অন্যরা কী চান, তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে একটি দল বেহেশতের টিকিটও বিক্রি করেছিল। অথচ বেহেশত ও দোজখের মালিক কেবল আল্লাহ। যারা এসব করেছে, তারা শিরক ও মুনাফেকি করেনি কি না— উপস্থিত জনতার কাছে সেই প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী মামলা-হামলা ও গুমের শিকার হয়েছেন। যারা তখন এসব ঘটনার বিরুদ্ধে ছিলেন না, তারা কোথায় ছিলেন— এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, তারা ১৯৭১ সালের ভূমিকায় ফিরে গেছে। মনে রাখতে হবে, মানুষ জীবন ও ইজ্জত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকায় উন্নয়নের চাকা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিএনপি সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মে পরিণত করতে চায়। উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন চাইলে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে— এমন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সময় এগিয়ে যাওয়ার। এ জন্য অনুকূ পরিবেশ ও পরিস্থিতি জরুরি। কেউ যেন অযথা পরিবেশ ঘোলাটে করতে না পারে, সে বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার নানামুখী কাজ করছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন ভাতা চালু করায় দল-মত ভুলে জনগণই উপকৃত হচ্ছে।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ফেনীতে এসে তিনি উৎফুল্ল। নিজের বাড়ির মতো মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার মা নেই, বাবাও নেই। ফেনী আমার মায়ের বাড়ি, মায়ের হিসেবে আমার নানার বাড়ি। মা যেহেতু মারা গেছেন, আপনারাই আমার আপনজন। আপনারাই আমাকে দেখে রাখতে হবে। ফেনীবাসীই আমার অভিভাবক। এ সময় উপস্থিত জনতা হাত উঁচু করে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান।

বক্তব্যের আগে মঞ্চ থেকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফেনী জেলায় মোট ৫ হাজার ৬৪৩ জনকে কার্ড দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ১২ জন কৃষক। তাদের মধ্য থেকে ১০ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি কৃষক কার্ড গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ফেনী জেলায় মোট ২৭৫ জনকে সম্মানীর জন্য মনোনীত করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের মধ্য থেকে ৬ জন ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেম, ২ জন সেবায়েত এবং ২ জন পুরোহিত প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মানী গ্রহণ করেন।

এ সময় অনলাইনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সভামঞ্চ থেকেই ভাতাভোগীরা নিজেদের মোবাইল ফোনে ভাতার অর্থপ্রাপ্তির ক্ষুদে বার্তা পান।

দিনব্যাপী সফরের শুরুতে দুপুর সোয়া ২টায় ফেনীর পরশুরামে পৌঁছে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বহুল প্রতীক্ষিত ‘মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সড়কপথে পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় পৌঁছে তিনি প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। এ সময় জনগণও বৃষ্টিতে ভিজে উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে নদীপাড়ে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি জনবহুল দেশে রাজনৈতিক দলের কিছু দুষ্ট লোক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে। সেটিকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এতে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হলে এর দায় তাদেরই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।

তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে শুধু দেশেই নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অথচ তারা অন্যদের নসিহত করে বেড়াচ্ছে। বিভ্রান্তি থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে ১৯৭১ ও ১৯৮৬ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা কী ছিল, তা আবার জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। অরাজকতা ও ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর জবাব দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দল যার যার, দেশটা সবার।’ গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে উন্নয়নের পাশাপাশি অপপ্রচার রোধেও জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ১৯৭১-এর রূপে আবারও ফিরে গেছে। মা-বোনদের ইজ্জত হরণ ও হত্যায় মেতে উঠেছে। বিএনপি নেতাকর্মী ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে তাদের মুখোশ উন্মোচনের। নাম উল্লেখ না করে ওই রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দয়া করে আগে নিজের ঘর সামলান, পরে অন্যদের নসিহত করুন।’

দেশে অনেক রাজনৈতিক দল থাকলেও একমাত্র বিএনপি দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে— এমন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা করা হবে।

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিএনপি সরকার গঠন করেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে সরকারের দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দেশের ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব বন্ধ মিল-কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব কলকারখানা চালু হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনীতির চাকাও সচল হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর স্বৈরাচার সরকার জনগণের কণ্ঠরোধ করে অধিকারবঞ্চিত করেছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।

মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর ফলে নতুন করে ৩৪ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আসবে। এতে এক লাখ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন বাড়বে আশা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, এর ফলে শস্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে।

পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী যান ফুলগাজীতে প্রতিষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে। সেখানে অপেক্ষমাণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান ও আগের বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর নারী শিক্ষার প্রসারে প্রথম যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ২০০১ সালে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করে। ওই সরকারের সময় দেশ নকলমুক্ত হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত মহিলা কলেজটি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এ ক্ষেত্রে ভালো ও গুণগত ফলাফলের শর্ত জুড়ে দেন তিনি। পরে কলেজ মাঠে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসব অনুষ্ঠানে পানি সম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad