• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৫-৬-২০২৪, সময়ঃ সকাল ১১:১১
  • ৪১ বার দেখা হয়েছে

দিনাজপুরের রসালো লিচু এখন বাজারে, তবে দাম চড়া

দিনাজপুরের রসালো লিচু এখন বাজারে, তবে দাম চড়া

সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর

দিনাজপুরের লিচুর নাম শুনলেই অনুভূতি অন্যরকম। জৈষ্ঠ্য মাস মানেই মধু মাস। তাই এখন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত হচ্ছে লিচুর জন্য উপযুক্ত সময়। লিচুর বাজারে ঢুকলেই ব্যবসায়ীদের হাঁকডাক শোনা যায়। কেউ বলছে মাধববাটির বোম্বাই লিচু আছে। লাল টসটসে দিনাজপুরের লিচুর ভরা মৌসুম চলছে এখন।

গত ১৫ দিন আগে থেকে  লিচু বাজারে পাওয়া গেলেও এখন ভরা লিচুর বাজার চলছে । দিনাজপুরের সবচেয়ে লিচুর মার্কেট নিউ মাকের্ট লিচুর হাট বসছে । প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৯টার পর্যস্ত চলছে লিচু বিক্রি । খুচরা আর পাইকারী বাজার আলাদা ভাবে বসছে এই নিউ মার্কেটে ।  দিনাজপুরী লিচু মানেই অন্যরকম মিষ্টি ও রসালো স্বাদ। বিভিন্ন জাতের লিচুর মধ্যে বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-থ্রি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে । এছাড়া  বাগানগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে  বিভিন্ন জাতের লিচু । 

গত দুই দিন দিনাজপুর সদর উপজেলার উলিপুর, মাসিমপুর, আউলিয়াপুর, মহব্বতপুর ও বিরলের মাধববাটি, রবিপুর এলাকায় লিচুবাগান ঘুরে দেখা যায়, সদর উপজেলার অধিকাংশ মাদ্রাজি ও বেদানাগাছে ফলন কম। কোনো কোনো গাছে একেবারেই ফল নেই। এ বছর মাধববটির চিত্র আলাদা যেহেতু এই এলাকায় বেশির ভাগ লিচু বোম্বাই ।  বোম্বাই জাতের লিচু ভাল হয় । গত বছরের তুলনায় মাধববাটিতে লিচুর ফলন কম হলেও এবছর বেশি ফলন হয়েছে । লিচুর বাজার প্রতিদিন ঊব্ধমুখি হওয়ায় ভাল দামও পাচ্ছে চাষীরা ।

 

লিচু গাছের নীচে বসেই ৫০ করে আর্টি বাধার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন লিচু বাগানীরা । এতে করে অনেকের বাড়তি আয়ও হচ্ছে । কেউ কেউ মোবাইলে লিচু বাজার জানার চেষ্ঠা করছে আজ লিচু রাজার কত ?

দিনাজপুরের লিচু বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ওঠা বোম্বাই জাতের লিচু প্রতি একশ’টি ২০০ থেকে ৩২০ টাকা, মাদ্রাজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, বেদেনা লিচু ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চায়না থ্রি ১৫০০ থেকে ১৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাধববাটি থেকে আসা লিচু বাগান ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম জানান, বাজারে লিচুর দাম প্রতিদিনই ওঠানামা করছে। যার ফলে তাদেরকে কোনও দিন লাভ আবার কোনওদিন আসল নিয়ে বাড়িতে ফিরতে হচ্ছে। তবে লোকসানের যে আশঙ্কা ছিল তা নেই।

লিচুচাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার বাজার শুরু থেকে চড়া। গতবারের চেয়ে জাতভেদে প্রতি হাজার লিচু ৭০০-৮০০ টাকা বেশি দাম রাখতে হচ্ছে। কারণ, জেলার কিছু কিছু জায়গায় লিচুর ফলন একেবারেই কম। 

নিউমার্কেটে ২০০ মাদ্রাজি লিচু ৭০০ টাকায় কিনেছেন আবদুস সাত্তার (৪৭)। তিনি বলেন, ‘দু–একটা খেয়ে দেখলাম। রসে ভরপুর অনেক মিষ্টি ।বাড়ীতে ছেলেমেয়ে আছে তাদের জন্যেই কিনে নিয়ে যাচ্ছি ।

লিচু ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বলেন,  দিনাজপুরের লিচু দেশের বিভিন্ন জায়গায় কুরিয়ারে পাঠানো হয়। এ বছর  যাঁর গাছে ফল আছে, তাঁরা এবার ভালো দাম পাবেন। 

স্থানীয় কিংবা ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভিন্ন স্থান থেকে আড়ৎদার ও ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এবার অনেক লিচু আবাদ হয়েছে। যার ফলে লিচুর দাম কম-যার প্রভাব পড়ছে দিনাজপুরের বাজারে। তবে তুলনামূলকভাবে গত বছরের চেয়ে এবারে লিচুর বাজার দাম বেশি।

ময়মনসিংহ থেকে আসা লিচু ব্যবসায়ী শরিফ উদ্দিন জানান, এবারে রংপুর, নওগাঁ, পাবনা, নাটোরেও লিচু আবাদ হয়েছে। সব জায়গার চেয়ে দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা অনেক বেশি।

ঢাকা থেকে আসা লিচু ব্যবসায়ী দিলদার আলী জানান, দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা সবখানেই বেশি। লাভ কম হলেও ব্যবসা ভালো হওয়ার জন্য এখানের লিচুর ব্যবসা করেন।তিনি আরও জানান, এ বছরে লিচুর ব্যবসা করতে কোনও শঙ্কা নেই তার। তাছাড়া আবহাওয়াও মোটামুটি ভালো বিরাজ করছে।

দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের সহকারী উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরুল আহসান জানান, এবারে খরা আবহাওয়ার কারণে লিচুর দানা কম হয়েছে। তাছাড়া এবারে লিচু মোটাতাজাকরণের হরমোন ব্যবহার না হওয়ায় আকারে লিচু ছোট হয়েছে। যাতে করে আকার অনুযায়ী দাম কম। এবারে আংশিক হলেও আগামী বছর পুরোপুরিভাবে কোনও প্রকার কীটনাশক ও হরমোন ছাড়াই লিচু আবাদ হবে, যেটি মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য একটি ভালো দিক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ উপ পরিচালক কৃষিবিদ নুরুজ্জাামান জানায়, এবার জেলায় ৫ হাজার ৪৮৯ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৩৮ হেক্টরে বোম্বাই জাতের লিচু, ১ হাজার ৭৮ হেক্টরে মাদ্রাজি,  ৭০৭ হেক্টরে চায়না থ্রি, ৩১০ হেক্টরে বেদানা, ১৩২ হেক্টরে চায়না টু এবং ২৪ হেক্টর জমিতে কাঁঠালি জাতের লিচু আবাদ হয়েছে। এবার লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ১১৭ মেট্রিক টন। আবহাওয়ার কারনে অনেক লিচু চাষী এবছর ক্ষতিগ্রস্থ । 

 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়