Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৪০ মিনিট আগে
  • ২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সন্তানের সাফল্যে অভিভাবকদের ভূমিকা: একটি পথনির্দেশিকা

সন্তানের সাফল্যে অভিভাবকদের ভূমিকা: একটি পথনির্দেশিকা

মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ►

সন্তানের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে শিক্ষকের পাশাপাশি অভিভাবকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সন্তানের মেধা ও মনন বিকাশে কেবল আর্থিক জোগান দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং তাকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন সঠিক তত্ত্বাবধান ও বন্ধুত্বপূর্ণ মানসিক সংযোগ। একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে সন্তানের সফলতায় যে বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া জরুরি, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

সন্তান নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, পড়াশোনায় মনোযোগী কি না কিংবা তার সঙ্গ কেমন-এসব বিষয়ে নিয়মিত নজর রাখা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি তার খাওয়া-ঘুমের রুটিন এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের দিকেও অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে। 

ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানের জন্য সময় বের করা একান্ত প্রয়োজন। সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। তার স্কুল, বন্ধু ও অনুভূতির কথাগুলো শুনুন। যখন সন্তান বুঝতে পারে যে তার কথা শোনার মতো কেউ আছে, তখন সে যেকোনো সমস্যা নির্ভয়ে শেয়ার করতে পারে।

সন্তানের যেকোনো ভালো কাজের স্বীকৃতি দিন। কেবল ভুল ধরিয়ে না দিয়ে, অর্জিত সাফল্যের প্রশংসা করলে তার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। কোনো ভুল করলে তাকে তিরস্কার বা অপমান না করে, বুঝিয়ে ভুল সংশোধনের সুযোগ করে দিন।

স্কুলে পাঠানোই দায়িত্বের শেষ নয়। সন্তানের পড়াশোনার অগ্রগতি, ক্লাসে আচরণ ও নিয়মশৃঙ্খলার বিষয়ে শ্রেণিশিক্ষকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। এতে সন্তান পড়াশোনার প্রতি আরও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।

স্কুলে কী পড়ানো হয়েছে বা আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন-এসব বিষয়ে সন্তানের সাথে আলোচনা করুন। মাঝেমধ্যে শিক্ষকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সাথে সন্তানের বলা কথার মিল আছে কি না, তা যাচাই করা যেতে পারে। এতে তার দুর্বলতাগুলো সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

বর্তমান যুগে মোবাইল থেকে সন্তানদের পুরোপুরি দূরে রাখা কঠিন, তবে এর অপব্যবহার যেন না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রযুক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো তাকে বুঝিয়ে বলুন। অভিভাবকরা নিজেরা আদর্শ স্থাপন করুন, যাতে সন্তান প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে পড়াশোনা ও খেলাধুলায় ভারসাম্য বজায় রাখে।

শাসন হোক ভালোবাসা ও সংশোধনের উদ্দেশ্যে। অতিরিক্ত প্রশ্রয় যেমন সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে, তেমনি কঠোর আচরণও তাকে বিদ্রোহী করে তুলতে পারে। তাই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ধৈর্য ও মমতার সাথে সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালনা করুন।

পরিশেষে, একজন শিক্ষার্থী কেবল বিদ্যালয়ের পড়াশোনা দিয়েই সফল হয় না; পরিবারের সচেতনতা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিরন্তর সহযোগিতাই তাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর হিসেবে অভিভাবকদের এই সচেতন প্রয়াসই হোক তাদের প্রতিদিনের অঙ্গীকার। লেখক: সিনিয়র শিক্ষক, রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad