Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৫৪ মিনিট আগে
  • ২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ

১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক ►
আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান, আগামী ১২ ডিসেম্বর এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পানিসম্পদমন্ত্রী। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তিটি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। এই ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তিটি আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হবে। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার।

একই সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে গ্যারান্টি ক্লজসহ নতুন চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ জোর দিচ্ছে। ‘১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি হয়েছিল, যেখানে গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ রেখেই চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন চুক্তি করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ১২ ডিসেম্বরের আগেই আমাদের নতুন চুক্তি করতে হবে।

সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় পক্ষই যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠকের ভিত্তিতে আমরা আশাবাদী, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে। সেখানে আমাদের মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে আনা।’
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, গঙ্গার চুক্তি নবায়ন হচ্ছে, নাকি আগের গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে এনে নতুনভাবে চুক্তি করা হবে—জানতে চাইলে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেমিনারে এই আলোচনার ওপরই জোর দিয়েছি। সবাই একমত যে নতুনভাবে চুক্তি করে যেন আরো দীর্ঘ মেয়াদে গ্যারান্টি ক্লজসহ আমরা এগোতে পারি। আমাদের সরকারের নীতি হলো দেশের মানুষের ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ফিজিবিলিটি স্টাডি
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। ভারত থেকে উজানের পানি যেভাবে ভাটি এলাকায় আসে, দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের মানুষ এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে জীবনধারণ করছে। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রচুর সেমিনার হয়েছে এবং হচ্ছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা ও বৈঠক করা হয়েছে এবং তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাদের কারিগরি সহায়তা বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেওয়া বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন।

‘শিগগিরই এর ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ হাতে নিতে হবে। স্টাডির ভিত্তিতেই আমরা প্রকল্পের কাজ শুরু করব। আমরা আশা করছি, এটি সম্পূর্ণ করতে কিছুটা সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সব শেষ করে যেন ২০২৭ সালেই মূল কাজ শুরু করা যায়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে,’ বলেন তিনি। তিস্তার ফিজিবিলিটি স্টাডি নতুন করে করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজের স্টাডি সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরবর্তীতে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘তিস্তার মতো মেগা প্রজেক্টের স্টাডি রাতারাতি বা এক-দুই মাসে সম্ভব নয়। অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে কাজ শেষ করেননি। তাই আমাদের সরকার নিজ উদ্যোগেই এই কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দেবে।’

পদ্মা ব্যারেজের কাজ শুরু হবে ২০২৭ সালের শুরুতে

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট। এগুলোকে বাংলাদেশের জন্য ‘মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট’ বলা যায়। এসব প্রকল্পের সুফল বাংলাদেশের মোট অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় সাত কোটি মানুষ পাবে। তিনি বলেন, বর্ষার সময় কী পরিস্থিতি হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে কী পরিবেশ তৈরি হয়, তা সবাই জানেন। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে মেগা প্রজেক্ট ও কঠিন পদক্ষেপ নিয়ে এগোতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জই সরকার হাতে নিয়েছে।

‘পদ্মা ব্যারেজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য ইতিমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে কাজ দৃশ্যমানভাবে শুরু হবে। ইতিমধ্যে আমরা সাইট ভিজিটও করেছি,’ বলেন তিনি।

দেশের মানুষের স্বার্থই সবচেয়ে বড় চাপ
পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা প্রকল্পে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ও তিস্তার পাড়ে যারা বাস করেন, তাঁরা আমাদের দেশেরই মানুষ। আমার দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

১২ ডিসেম্বরের আগে মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক
১২ ডিসেম্বরের আগে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে কি না—জানতে চাইলে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘জেআরসির কারিগরি টিম ইতিমধ্যে কাজ করছে। তাদের কাজ শেষ হলেই মন্ত্রী পর্যায়ে বাকি কাজ সম্পন্ন হবে।’ এর আগে নিজের সরকারের দায়িত্ব নেওয়া ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো মাঠের লোক। রাজপথে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের একটি ম্যান্ডেট নিয়েই আজ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ। একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়েই আমাদের এই যাত্রা শুরু হয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে আপনারা সবাই অবহিত আছেন। খুব সহজভাবে আমাদের এখানে আসা হয়নি। অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে—শ্রম, অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুন সবকিছুই এর সঙ্গে জড়িত।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজ দায়িত্ব নিয়েছি আমরা প্রায় ছয়-সাত মাস হচ্ছে। এর মধ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান অনেকগুলো কাজের হাত দিয়েছেন, যা দৃশ্যমান এবং আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad