Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৫৩ মিনিট আগে
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

এশার নামাজ পড়ে ফজরে এসে দেখেন পদ্মায় বিলীন মসজিদ

এশার নামাজ পড়ে ফজরে এসে দেখেন পদ্মায় বিলীন মসজিদ

অনলাইন ডেস্ক ►
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মার তীব্র স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে আস্ত একটি মসজিদ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে যে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেছিলেন মুসল্লিরা, কয়েক ঘণ্টা পর ফজরের সময় গিয়ে দেখেন সেখানে মসজিদটির কোনো চিহ্নই নেই। উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোতে নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। একের পর এক নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

সরেজমিনে গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার পাড়জুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙন ঠেকাতে আগে ফেলা বালুর বস্তার প্রতিরোধব্যবস্থার বড় অংশই স্রোতের তোড়ে ধসে পড়েছে। নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদটি রাকিরকান্দি এলাকার মাদানী কমপ্লেক্স মাদ্রাসার অংশ ছিল। মাদ্রাসার ছাত্র সোহেল জানান, শুক্রবার রাতে তাঁরা মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদ্রাসায় ঘুমিয়েছিলেন। ভোরে উঠে দেখেন মসজিদটি নদীতে ভেঙে গেছে, বাধ্য হয়ে তাঁদের এখন মাঠে নামাজ পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুদু অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় নদী গভীর হয়ে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল জানান, গত পাঁচ বছর ধরেই এ এলাকায় ভাঙন চলছে। এরই মধ্যে মাদ্রাসার প্রায় ১০০ শতাংশ জমি ও মাহফিলের মাঠ নদীতে চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কথা শোনা গেলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

শুধু সদর উপজেলা নয়, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী এলাকায়ও তীব্র নদীভাঙন চলছে। স্রোতের কারণে ছোট নৌযান চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রোববার বিকেলে ভাঙনকবলিত সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন এবং জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। এ সময় তাঁরা বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী বলেন, ‘এলাকার ভাঙন রোধে আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের নিয়ে ভাঙনের হুমকিতে থাকা ৪০০ মিটার এলাকায় কাজ করছি।’ সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে থাকা এই এলাকার ভাঙন রোধে তাঁরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক জানিয়েছেন, নদীতে তীব্র স্রোত থাকলেও পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে সাধ্যমতো কাজ চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad