
অনলাইন ডেস্ক ►
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে মো. বাদশা (২৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় মাজেদুল ইসলাম (১৯) নামে আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ। নিহত বাদশা ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর গুচ্ছগ্রামের মো. জামালের ছেলে। আহত মাজেদুলও একই গ্রামের বাসিন্দা।
আটকরা হলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার রিয়াজপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে আজিমুল হক (৩৫), পাম্পের কর্মচারী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার উত্তর বানা গ্রামের আব্দুর সামাদ আলীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম সজীব (৩১), ক্ষেতলাল থানার মহব্বতপুর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৩০) এবং জয়পুরহাট সদর থানার বেলতলা গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে মো. আমজাদ আলী (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে চুরি বা অবৈধভাবে প্রবেশের সন্দেহে বাদশা ও মাজেদুলকে আটক করা হয়। পরে তাদের একটি পোল্ট্রি খামারে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনে দুজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের ক্ষেতলালের মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকার সড়কের পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরদিন ভোরে স্থানীয়রা তাদের দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় বাদশাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং মাজেদুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
আহত মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চুরি করেছি—এ কথা বারবার অস্বীকার করলেও আমাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। অপরাধ স্বীকার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। ভোরে জ্ঞান ফেরার পর দেখি, আমার পাশে বাদশার নিথর দেহ পড়ে আছে। জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাত জনকে আটক করেছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদে চারজনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যাওয়ায় তাদের ক্ষেতলাল থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
ডিবি সূত্র জানায়, আটক সাতজনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় অপর তিনজনকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।