
অনলাইন ডেস্ক ►
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন অনেক সমর্থক। তাদের দাবি করছেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আলবিসেলেস্তেরা একাধিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে আর্জেন্টিনার টেলিভিশন অনুষ্ঠান তোদো নতিসিয়াস। অনুষ্ঠানটি সম্প্রতি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ১০ জন পরিচিত ব্যক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। যেখানে সবার উপরে আছেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান।
শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় মিশর। ওই ম্যাচে মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে বেইন স্পোর্টস-কে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা তাদের বিপক্ষে অনেক ভালো দল ছিলাম, কিন্তু যা হলো সেটা অন্যায় হয়েছে। আমাদের একটি পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল এবং একটি গোল বাতিল হলো। এটা কি শুধু মার্কেটিংয়ের জন্য? তারা কি চায় মেসি খেলা চালিয়ে যাক?
ব্রিটিশ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগানও আছেন এই তালিকায়। তিনি আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে এক্স-এ লিখেছিলেন, তাদের আচরণ ছিল জঘন্য, বিশেষ করে পারেদেসের। তারা একটি সহিংস দল এবং ফুটবলের জন্য কলঙ্ক। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক জোনাথান ফিয়ালি জবাব দেন, আমরা কি একজন ইংরেজ সাংবাদিকের মুখে এসব আজেবাজে কথা শুনছি?
এই তালিকায় আছেন হলিউড অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনও। অনুষ্ঠানের দাবি, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ হিসেবে উল্লেখ করায় তাকে আর্জেন্টিনা বিরোধী অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তালিকায় নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম, স্প্যানিশ সংগীতশিল্পী রোসালিয়া এবং চিলির অভিনেতা পেদ্রো পাসকালের নামও রয়েছে। যদিও তাদের প্রত্যেকের মন্তব্য বা অবস্থান নিয়ে অনুষ্ঠানে পৃথকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা আইশো স্পিডও এই তালিকায় রয়েছেন। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ এবং আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে অনলাইনে ও সরাসরি বাকবিতণ্ডার ঘটনাকে অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনাবিরোধী আচরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
তোদো নতিসিয়াস-এর এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে একটি বৈধ আত্মপক্ষ সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করেন। অন্যরা এটিকে অতিরঞ্জন হিসেবে দেখেন এবং তাদের মতে, সাধারণ সমালোচনাকে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে একটি সংগঠিত ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।