
সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদীর ওপর মওলানা সেতু চালু হওয়ার পর ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে চরবাসীর। হরিপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া ১৪৯০ মিটার এই সেতুর দুই পাড়ে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে পাঁচ শতাধিক স্থায়ী ও ভাসমান দোকানপাট। এতে করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে অন্তত দেড় হাজার মানুষের। সেই সাথে চরবাসীর জীবনযাত্রার মান অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে।
স্থানীয় এ এসএম নূরুল আখতার মজনু বলেন, সেতু দুই পাড়ের আশপাশ প্রায় ২ কিলোমিটার পর্যন্ত সংযোগ সড়কের ধারে জমির দাম যেন আকাশচুম্বী। স্থানীয় ও জেলার বাইরের অনেকে ব্যবসা, বিনোদন কেন্দ্র, রির্সোট ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য চড়া দামে জমি কিনে অবকাঠামো নির্মাণ করছেন। হরিপুরের বিভিন্ন চরের বেকার মানুষরা এখন সেতুর দুই পাড়ে সড়কের ধারে বিভিন্ন সওদা বিক্রি করে সুন্দরভাবে সংসার পরিচালনা করছে।
সেতুর ওপর ভাসমান চটপটি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি আগে জেলার বাইরে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করতেন। সেতু চালু হওয়ার পর বাড়িতে থেকে সংসার দেখভাল করে প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চটপটি বিক্রি করে প্রায় ৭০০ হতে হাজার টাকা রোজগার করছেন। এখন তার সংসার আগের চেয়ে ভাল চলছে।
বিনোদন ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন বলেন, সেতু চালু হওয়ার পর থেকে তিনি একটি কাঁঠের ঘুড়ানি তৈরি করেছেন। সেতু দেখতে আসা শিশু ছেলে-মেয়েরা ঘুড়ানিতে আনন্দ উপভোগ করছেন। এতে তার ভাল আয় হচ্ছে। তিনি আগে নৌকার মাঝি-মাল্লার ছিলেন। আগের চেয়ে ভালই চলছে তার সংসার।
সেতুর উত্তর পাড়ের পাঁচপীর এলাকার ঢাকাগামী কোর্চ কাউন্টারের মালিক কাজল মিয়া বলেন, সেতু চালু হওয়ার পর থেকে কুড়িগ্রাম, উলিপুর, থানার হাট থেকে সেতুর ওপর দিয়ে এবং পাঁচপীর থেকে অন্তত ১৫টি কোর্চগাড়ি ঢাকা যাওয়া আসা করছে। প্রতিদিন এলাকার শতাধিক যাত্রী দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়া আসা করছেন। এতে করে অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
ক্যাফে ও পার্টি সেন্টারের প্রোপাইটার কাওছার আহমেদ বলেন, সেতু চালু হওয়ার কিছু দিন আগে নদীর ওপর কংকির্টের খুঁটির ওপর ফাস্ট ফুড ও ক্যাফে পার্টি সেন্টার চালু করি। সেতু চালু হওয়ার পর পরই ভাল বিক্রি হয়েছে। এখনো হচ্ছে, তবে আগের চেয়ে কম। তারপরও প্রতিদিন ৩০ হতে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, সেতুটি চালু হওয়ার পর যোগযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় পরিবর্তন হয়েছে। সেই সাথে চরবাসীর জীবনমান অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। কর্মসংস্থার সৃষ্টি হয়ে হাজারো পরিবারের। আশা করা যাচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে সেতুর দুই পাড়ে ব্যবসায়ীক জোন সৃষ্টি হবে। গড়ে উঠবে শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র ও রির্সোট সেন্টার। তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এটি নৌ-বন্দরে পরিনত হবে।