
নিজস্ব প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দারিয়াপুর বন্দরে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। অল্প বৃষ্টিতেই বন্দরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ও পথচারীরা অভিযোগ করে জানায়, সম্প্রতি বন্দরের প্রধান সড়কে সিসি ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হলেও পর্যাপ্ত ও কোনো আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার ফলে বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পথচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিনিয়ত জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অনেক শিক্ষার্থীকে কাদাপানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের পোশাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনেকেই পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত ও অসুস্থ হচ্ছেন। এদিকে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বেচাকেনা ব্যাহত হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক পরিষদ (সনাপ) দারিয়াপুরের সদস্য সচিব আব্দুর রশিদ বলেন, দারিয়াপুর বন্দরের জলাবদ্ধতা, যানজট নিরসন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং পুরাতন ড্রেনগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে বন্দরকে পরিচ্ছন্ন রাখার দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও গাইবান্ধার বিভিন্ন সরকারি অফিসে একাধিকবার আবেদন করেছেন।
কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, জনদুর্ভোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে দারিয়াপুরের ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী হুমায়ন কবীর জানান, সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে থাকার কারণে পথচারী, স্কুল- কলেজের ছাত্রছাত্রী ও হাটে আসা লোকজনদের ব্যাপক সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। তাই বন্দরের সকল ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা অবিলম্বে দারিয়াপুর বন্দরে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, বিদ্যমান ড্রেনসমূহ সংস্কার ও পরিষ্কার এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বন্দর সংলগ্ন বাসিন্দা লক্ষণ রায় জানান, উত্তর জনপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গরুর হাট থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব নিচ্ছে সরকার, সে অনুপাতে দারিয়াপুর হাটের কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি। বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দারিয়াপুর বন্দরের এই দীর্ঘদিনের সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনীতি আরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।