Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ৫ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

রংপুরে সোনালী ব্যাংক প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী স্বাস্থ্য ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

রংপুরে সোনালী ব্যাংক প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী স্বাস্থ্য ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন
জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে রংপুরে অনুষ্ঠিত হলো এক বৃহৎ স্বাস্থ্য ক্যাম্প। “হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, রংপুর” এর উদ্যোগে এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসি, জেনারেল ম্যানেজারস অফিস, রংপুরের সহযোগিতায় আয়োজিত এ স্বাস্থ্য ক্যাম্পটি গত ছয় মে অনুষ্ঠিত হয় সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট ব্রাঞ্চ, রংপুর প্রাঙ্গণে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে স্থানীয় জনসাধারণ, ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করেন হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, রংপুর-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “অসংক্রামক রোগ যেমন হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিস বর্তমানে নীরব মহামারীতে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের ক্যাম্প জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি, জেনারেল ম্যানেজারস অফিস, রংপুর-এর মহাব্যবস্থাপক মোঃ আমিনুল ইসলাম,বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রিন্সিপাল অফিসের ডিজিএম নাসিমাতুল জান্নাত, কর্পোরেট শাখার ডিজিএম সাবেরা সুলতানা,  জেনারেল ম্যানেজারস অফিসের এজিএম সাইয়েদ শাহজামাল, একেএম মাহবুবউল ইসলাম,গোলাম সরোয়ার মন্ডল, রুহুল আলম,নাজমা জেসমিন,কামাল পাশা,জয়নাল আবেদীন, সুকান্ত কুমার ঘটক,জাহিদুল ইসলাম সহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এ স্বাস্থ্য ক্যাম্পে মোট রোগীদের মধ্যে ডায়াবেটিস  শনাক্ত হয় ৪১ জনের, হাইপ্রেসার পাওয়া যায় ৮৩ জনের, উভয় রোগে আক্রান্ত ছিলেন ২৯ জন এবং ৮২ জনের মধ্যে কোনো রোগ শনাক্ত হয়নি। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে নারী অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল 9৮ জন এবং পুরুষ ১৩৭ জন, যা নারী-পুরুষ উভয়ের সমান আগ্রহ ও সচেতনতার প্রতিফলন ঘটায়। পেশাভিত্তিক অংশগ্রহণে চাকরিজীবী ছিলেন সর্বাধিক 1৩৪ জন, এরপর গৃহিণী ৪০ জন, ব্যবসায়ী ২৭ জন, শ্রমিক ১৮ জন, অবসরপ্রাপ্ত ১২ জন এবং শিক্ষার্থী ৪ জন। বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে ৪০-৪৯ ও ৫০-৫৯ এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন, যা বয়স্ক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সচেতনতার ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগসমূহ নীরব মহামারীর মতো বিস্তার লাভ করছে, যা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জীবনযাত্রার সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। মানবসম্পদ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান হিরন, জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন, শরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য বক্তারা স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার পাশাপাশি একটি সুস্থ, সচেতন ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, রংপুর তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করবে। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু চিকিৎসা সেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন, যা সুস্থ সমাজ গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad