
নিজস্ব প্রতিবেদক ►
গাইবান্ধার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আবারও শুরু হয়েছে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম। দীর্ঘ বিরতির পর নিয়মিত টিফিন বিতরণ শুরু হওয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে বহুগুণ, সেই সঙ্গে পড়াশোনায় ফিরেছে মনোযোগ। তবে শিক্ষার্থীদের এমন অভাবনীয় সাড়ায় বর্তমানে অধিকাংশ স্কুলেই দেখা দিয়েছে টিফিন সংকট।
জেলার সদর ও পলাশবাড়ী, এই দুই উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় শুরু হওয়া স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে ইতোমধ্যেই শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৪৬৬টি। কার্যক্রমের এই সাফল্যে স্থানীয়রা দ্রুত জেলার সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, এখন সকাল থেকেই গাইবান্ধার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি। স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় সপ্তাহে রুটিন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে কলা, রুটি, ডিম ও দুধ। দারিদ্র্যপীড়িত এই জেলায় নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা আগে অধিকাংশ সময় খালি পেটে স্কুলে আসত এবং দুপুরের আগেই বাড়ি ফিরে যেত। পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় শিশুদের স্কুলে আসার আগ্রহ বেড়েছে, একই সঙ্গে কমেছে ঝরে পড়ার হার।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারিভাবে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য টিফিন বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় টিফিনের জোগান কম হওয়ায় বেশ বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকরা।
স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী বেসরকারি সংস্থা ইএসডিওর গাইবান্ধা জেলা ম্যানেজার মো. আবু ওয়ালিদ বলেন, ‘পাইলট প্রকল্পে সদরের ২২৩টি ও পলাশবাড়ীর ২১৬টি বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ায় বাড়তি টিফিনের চাহিদার বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যে শিক্ষা বিভাগকে জানিয়েছি।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম অভাবনীয় সাফল্য বয়ে এনেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পর্যায়ক্রমে জেলার সব উপজেলায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’