
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে দেয়াল পত্রিকায় দ্বিতীয় এসকেএস স্কুল এ্যান্ড কলেজ—ছবি: সংগৃহীত।
নিজস্ব প্রতিবেদক►
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬—এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় দেয়াল পত্রিকা ইভেন্টের ‘খ’ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে গাইবান্ধার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসকেএস স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ‘এক আকাশের নিচে’-শীর্ষক দেয়াল পত্রিকার জন্য তারা এই গৌরবময় কৃতিত্ব অর্জন করে।
শিক্ষার্থীরা হলেন—প্রতিষ্ঠানটির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. সাবিহা সরকার ও তার দলের সদস্য দশম শ্রেণির আফসানা মিমি আভা, আফরিন আক্তার অরণ্য, আল মাহফুজ শাহরিয়ার, মো. হাসিম মেজবা এবং নবম শ্রেণির তাহসিন রহমান মৌরি। ছয় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় তৈরি এই দেয়াল পত্রিকাটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘এক আকাশের নিচে’। এতে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, জীবনধারা এবং পথশিশুদের জীবন-সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। রঙিন কাগজের কারুকাজ, বৈচিত্র্যময় চিত্রকর্ম এবং গভীর জীবনবোধের লেখনীর দেয়াল পত্রিকাটিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬’ এর পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দলের হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন দলনেতা মোছা. সাবিহা সরকার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের বৈতরণী পার হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয় এসকেএস স্কুল এ্যান্ড কলেজের প্রতিনিধি দলটি। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় দেশের সকল বিভাগের সেরা দেয়ালিকাগুলোর মধ্যে এসকেএস স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই কাজটি বিচারকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। সৃজনশীলতা, বিষয়বস্তুর গভীরতা এবং শৈল্পিক উপস্থাপনার নিরিখে এটি দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।
এই অভাবনীয় সাফল্যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা আনন্দিত। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনায় নয়, সৃজনশীল কাজেও যে অনন্য, এই অর্জন তারই প্রমাণ। ‘এক আকাশের নিচে’ থিমটির মাধ্যমে তারা যে বার্তা দিয়েছে, তা আজ জাতীয়ভাবে স্বীকৃত। এই গৌরব পুরো গাইবান্ধা জেলার।