• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৪-৫-২০২৩, সময়ঃ সকাল ১০:২৯
  • ৪৪ বার দেখা হয়েছে

তামিম এখন শুধুই অধিনায়ক

তামিম এখন শুধুই অধিনায়ক

ক্রীড়া প্রতিবেদক ►

ধারাভাষ্য ক থেকে অধিনায়ক তামিম ইকবালের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শুনতে বেশ লাগে। বাংলাদেশের সফল ওয়ানডে অধিনায়ককে নানা বিশেষণে বিশেষায়িত করছেন চেমসফোর্ডের টিভি ধারাভাষ্য করে বিশ্লেষকরা। তামিমের এতে খুশি হওয়ারই কথা। কারণ, অধিনায়ক হিসেবে দলের সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে তিনি। যদিও নিজের ব্যাটিং ব্যর্থতায় দলীয় সাফল্যকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারছেন না। 

ম্যাচের পর ম্যাচ রান না পেলে কারই বা ভালো লাগে। উপরন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে লেখালেখি হওয়ায় হৃদয় দহন হওয়া খুব স্বাভাবিক। একজন ওপেনার টানা ৯ ইনিংসে ব্যর্থ হওয়ায় টুকটাক সমালোচনা হতেও পারে। এ বাস্তবতা হয়তো মেনেও নিয়েছেন তামিম। কারণ তিনি ভালো করেই জানেন, একজন ব্যাটারকে দলে টিকে থাকতে হয় রান করে।

ক্রিকেটে অধিনায়কের গুরুত্ব অনেক বেশি। যে কারণে চৌকষ পারফরমারকেই নেতৃত্বে রাখা হয়। সেখানে পারফরম্যান্স না থাকলে নেতৃত্ব হারিয়ে দল থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ে। মুমিনুল হক তাঁর টাটকা উদাহরণ। কয়েকটি টেস্টে রান করতে না পারায় অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁর কাছ থেকে। আরও বড় পরিসরে উদাহরণ দিলে ব্রাজিল ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক রাইয়ের কথা বলা যায়। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ রাইয়ের নেতৃত্বেই শুরু করেছিল ব্রাজিল। অধিনায়ক পর পর দুই ম্যাচে ভালো করতে না পারায় নেতৃত্ব এবং একাদশের জায়গা দুই হারাতে হয়েছিল। 

২০১৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপে প্রথমে অধিনায়ক ছিলেন দীনেশ চান্দিমাল। তিনিও সেমিফাইনাল থেকে অধিনায়কত্ব হারিয়েছিলেন লাসিথ মালিঙ্গার কাছে। সে বিশ্বকাপে মালিঙ্গার হাত ধরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। এই অতীত রেকর্ডগুলো শিণীয় হতে পারে তামিমের জন্যও। জাতীয় দলে টিকে থেকে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিতে হলে তাঁর ব্যাটে রান চাইবেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তবে অতীত রেকর্ডে দেখা গেছে, রান না করেও টানা ম্যাচ খেলেছেন বাঁহাতি এ ওপেনার। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েও তো নিয়মিত ব্যাটিং ওপেন করে গেছেন কোচ স্টিভ রোডস আর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে।

তামিম যে দেশসেরা ব্যাটার তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ওয়ানডেতে ১৪টি সেঞ্চুরি, ৫৫টি হাফ সেঞ্চুরিসহ ৮ হাজার ২৩১ রান তাঁর। টেস্টে ১০ সেঞ্চুরিতে ৫ হাজার ১৩৪ রানের মালিক তিনি। টি২০তে দেশের পে একমাত্র সেঞ্চুরি তাঁর। এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারের বড় ইনিংস খেলতে না পারা দলের জন্য সত্যিই দুশ্চিন্তার। শেষ ৯ ম্যাচে ১৭৬ রান তামিমের। পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস নেই একটিও। 

সম্প্রতি স্ট্রাইকরেট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই স্ট্রাইকরেট নিয়ে সমালোচনার তোড়ে আন্তর্জাতিক টি২০ ছেড়ে দিয়েছেন গত বছর। ওয়ানডেতে তেমন কিছু হবে না বলে বিশ্বাস জাতীয় দল নির্বাচকদের। চেমসফোর্ড থেকে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, ‘ও চেষ্টা করছে। আশা করি, শিগগির রানে ফিরবে।’ 

সিলেটের কন্ডিশনিং ক্যাম্প থেকেই চন্ডিকাকে নিয়ে নিবিড় অনুশীলন করছেন তামিম। গতকাল চেমসফোর্ডের ঐচ্ছিক অনুশীলনেও ছিলেন। নিজেকে ব্যাডপ্যাচ থেকে বের করে আনার জন্য এ কসরত তাঁর। নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কথায়ও আশার বাণী, ‘তামিম ‘সিজন প্লেয়ার’। সময়মতো ও রান করবে।’ আসলে তামিমের মতো অন্য ব্যাটারদেরও সমান সুযোগ দেওয়া হলে কতই না ভালো হতো।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়