
গোপাল মোহন্ত, গোবিন্দগঞ্জ ►
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে প্রতিবছরই নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে অভিজ্ঞমহল। বর্তমানে গোবিন্দগঞ্জের বরেন্দ্র এলাকায় পানির স্তুর নীচে নেমে যাওয়ায় ১৫/১৬ ফিট গর্ত করে সেখানে সেচ মেশিন বসিয়ে জমিতে সেচ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। তারপরেও পানি না ওঠায় সাবমারসিব্যাল পাম্পের সাহায্যে ভুগর্ভের পানি দিয়ে সেচ কাজ পরিচালনা করছেন অনেক চাষী। ভুগর্ভস্থের পানির অপরিকল্পিত ব্যবহারে পানির স্তর প্রতিবছরই নীচে নামতে থাকায় সেচ নিয়ে বিপাকে কৃষকরা।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত সাপমারা, গুমানীগঞ্জ, কামদিয়া, কাটাবাড়ী, সাখাহার, রাজাহার ইউনিয়ন এলাকায় প্রতিবছর খরা মৌসূমে পানি সংকট দেখা দেয়। এ বছর ফাল্গুনের শুরতেই এই ইউনিয়নগুলোর বিস্তৃর্ণ এলাকার পানির স্তুর নীচে নেমে যাওয়ায় প্রতিবছরই খাওয়ার পানিসহ সেচ কাজে চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়। এবারো বোরো মৌসুমে পানি সংকট দেখা দেওয়ায় প্রায় ১৫/১৬ ফুট গর্তে স্যালা মেশিন বসিয়ে ধানের জমিতে সেচ কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে এলাকার কৃষকদের।
এছাড়াও মাদারপুর, জয়পুর, সাহেবগঞ্জ, চক রহিমাপুর, পলুপাড়া, রামপুরা, সিন্টাজুরী, গোয়ালপাড়া, শ্রীপুর মদনপুরসহ পাশ^র্বতী এলাকায় নলকুপগুলোতেও পানি না উঠায় খাওয়ার পানির সংকট রয়েছে। অনেকেই নলকুপের বদলে বাধ্য হয়ে সাবমার্সিবাল পাম্পের সাহায্যে মাটির গভীর থেকে পানি উত্তোলন করছে। ভুগর্ভের পানির অতিরিক্ত ব্যবহারে প্রতিবছরই এই এলাকায় পানির স্তুর নীচে নেমে যাচ্ছে। এতে করে আগামীতে এই এলাকায় পানি সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মাদারপুর গ্রামের কৃষক চরন মরমু বলেন, প্রতিবছরই পানিস্তর নেমে যাওয়ায় বাড়ীতে সাবমারসিবল পাম্প বসিয়ে পানি চাহিদা মেটানো হচ্ছে। একই ভাবে জমিতের সেচ কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ১০ বছর আগে এ পরিস্থিতি ছিলনা তখন টিউবওয়েলেই খাওয়ার পানির চাহিদা মিটানো যেত। সাহেবগঞ্জ, চকরহিমাপুর, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের একই সমস্যা তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান চায়।
এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী শাহা আলম বলেন, প্রতিবছরই এ সময় উপজেলার উল্লেখিত ৬টি ইউনিয়নে পানি সংকট দেখা দেয়। তাই আমরা এই সমস্য সমাধানে আলাদা প্রযুক্তির নলকুপ সরবরাহ করছি।