• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দিন রাত অপেক্ষা বাইকারদের



সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ► 

পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দিন রাত অপেক্ষা করেও পেট্রোল ও অকটেন না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে সাধারণ যানবাহন চালকদের। অথচ প্রভাবশালীগণ নিয়মিত পেট্রোল নিচ্ছেন পাম্প থেকে। সেই সাথে প্রভাবশালীদের পরিচিত এবং স্বজনরাও ফিরে যাচ্ছেন না। যার যানবাহন নাই, সেও দিনে ৫ হতে ৭টি গাড়ি নিয়ে এসে পেট্রোল নিয়ে যাচ্ছেন হরহামেশে। এই হচ্ছে গাইবান্ধার সুন্দদরগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি পাম্পের চিত্র। 

মীরগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোতে কোন নিয়ম কানুন মানা হচ্ছে না। যার যার মতে নিজের ইচ্ছামতে পেট্রোল নিয়ে যাচ্ছেন। সুষ্ঠু তদারকির অভাব এবং অন্তরিক না হওয়ার কারনে পাস্পগুলোতে দিন দিন সংকট বেড়ে যাচ্ছে। নিয়মিত পেটে্্রাল সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ একই ব্যক্তি প্রতিদিন পেট্রোল নিচ্ছেন। এই সিন্ডিকেট দুর করতে না পারলে সংকট বড় আকার ধারন করবে।
করিম এন্ড সন্স পাম্পের কর্মচারী আবু সাঈদ বলেন, আজ থেকে ছয় মাস আগে এক লড়ি পেট্রোল বিকি করতে ৭ হতে ৮ দিন সময় লাগত। আর এখন এক লড়ি পেট্রোল ৬ ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর কারন আমরা খুেঁজ পাচ্ছি না। এখন যাদেরকে পেট্রোল দেয়া হচ্ছে, আগে এক মাসেও তাদের দেখা মেলেনি। 

তারাপুর ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেন বলেন, পেট্রোলের দাম ঠিকে নিচ্ছে। কিন্তু দ্রুত মেশিন চালিয়ে পেট্রোল দেয়ার কারনে ১০ হতে ১৫ মিলি লিটার পেট্রোল কম হচ্ছে। সেই সাথে পেট্রোলের গুনগতমান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। 

এদিকে পেট্রোল ও অকটেন সংকটের কারনে উপজেলায় হাজারও কর্মজীবী মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। পেট্রোল ও অকটেন দিয়ে চালিত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে হাজারও মানুষ ব্যবসা বানিজ্য, কর্মসংস্থান ও রুজি রোজগারের ব্যবস্থা করে আসছিল। হঠাৎ পেট্রোল ও অকটেন সংকটের কারনে ওই কর্মজীবী মানুষের কর্মসংস্থান বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে। রুজি রোজগার করতে না পারলে ওইসব মানুষকে পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে দাবি সচেতন মহলের। এ অবস্থা চলতে থাকলে বেকারত্বের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকবে। 

মোটরসাইকেল চালিয়ে সিগারেটের ব্যবসা করেন সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার কলেজ পাড়ার মতিয়ার রহমান। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি পেট্রোল ও অকটেন না পাওয়ায় মোটরসাইকেল চালাতে পারছেন না। যার জন্য তার ব্যবসা বন্ধ। তিনি বলেন, প্রতিদিন সিগারেট বিক্রি করে যে লাভ হয়, তা দিয়ে সংসার চলে। এ অবস্থায় চরম বিপাকে রয়েছেন তিনি। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান না করলে হাজার কর্মজীবী বেকার হয়ে পড়বে। তিনি বলেন উপজেলায় কমপক্ষে দেড় হাজার মানুষ মোটরসাইকেল রুটি, বিস্কুট, দুধ, ডিম, মসলা, সিগারেট, জদ্দা, কাপড় বিক্রিসহ নানাবিধ ব্যবসা করছেন।  

বেলকা নবাবগঞ্জ চরের দুধ ব্যবসায়ী ফরমান আলী বলেন, তিনি প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে চর থেকে দুধ নিয়ে এসে উপজেলা শহরের হোটেলে দিতেন। বর্তমানে পেট্রোল ও অকটেন না পাওয়ায় তিনি আর গাড়ি চালাতে পারছেন না। অন্য যানবাহনে করে এ ব্যবসা করা সম্ভাব হচ্ছে না। এতে করে তার কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে।

গাইবান্ধা জেলা জজকোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী আনিছুর রহমান বলেন, সুন্দরগঞ্জ থেকে অন্য যানবাহনে করে গাইবান্ধা গিয়ে জজকোটে কাজ করা সম্ভাব হচ্ছে না। পেট্রোল ও অকটেন সংকটের কারনে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া সম্ভাব হচ্ছে না। এ সংকটের কারনে তার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। 

খলিল ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. খয়বর হোসেন মওলা বলেন, ডিপোতে ৩ হাজার লিটারের বেশি তেল দিচ্ছে না। সে কারনে সবসময় পাম্প খোলা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তেল না থাকায় বেশির ভাগ সময় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। হাজারও মোটর সাইকেল চালক তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক তেল দেয়া হচ্ছে। 

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, এটি আর্ন্তজাতিক সমস্যা। ইরানে য়ুদ্ধের কারনে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধ না থামা পর্যন্ত এ সমস্যা চলতে থাকবে। তবে সরকার, প্রশাসন, ফিলিং স্টেশন মালিক, গাড়ি চালসমহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মানবিক ও আন্তরিক হয়ে কাজ করতে হবে। তা না হলে সমস্যা বাড়তে থাকবে।

থানা অফিসার ইনচার্জ শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন,গত ১৫ এপ্রিল স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সুধীজনদের নিয়ে আলোচনা করে একটি নিয়ম চালু করা হয়েছিল। সেখানেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি মনে করেন ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে বৈধ কাগজপত্রের আলোকে পেট্রোল সরবরাহ করলে অনিয়ম অনেকটা কমে যাবে।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, নিয়ম চালু করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা মানা হচ্ছে না। বর্তমান সরকার ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে অত্যন্ত সর্তক অবস্থানে রয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাক অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। ফিলিং স্টেশন মালিকগণ যে বরাদ্দ পাচ্ছেন তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সারা দেশের এই চিত্র।