- মাধুকর প্রতিনিধি
- ২৪ ঘন্টা আগে
ডাম্পিং স্টেশন থাকার পরও পৌর সড়কের ধারে ময়লা- আর্বজনার স্তূপ
সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►
ডাম্পিং স্টেশন থাকার পরও পৌর শহরের যত্রতত্র ও সড়কের ধারে ময়লা-আর্বজনার স্তূপ এলাকার পরিবেশকে দুর্গন্ধময় করে তুলেছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচল মারাত্মক ভাবে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে দুর্গন্ধের কারনে অসুস্থ ও নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। সেই সাথে অত্যন্ত কষ্ট করে চলাচল করছেন অনেকে। পাশাপাশি বৃষ্টি-বাদলে ওইসব ময়লা-আর্বজনা পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে নদী-নালার পানি নোংরা হচ্ছে। দিনের পর দিন জনবল সংকটের দায় দিচ্ছেন পৌরসভা।
২০২৪ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌরসভার পাশে দহবন্দ ইউনিয়নের জরম নদী গ্রামে নির্মিত ডাম্পিং স্টেশনটি পৌরসভার নিকট হস্তান্তর করেন। বিধি মোতাবেক বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করে ডাম্পিং স্টেশনে তা ডাম্পিং করবে। এরপর তরল ও কঠিন বর্জ্য আলাদা করে মেশিনের সাহায্যে জৈব সার প্রস্তুত করা হবে।
জানা গেছে, কিছু বর্জ্য ঠিকাদারের মাধ্যমে আবার কিছু বর্জ্য পৌরসভা নিজে সংগ্রহ করবে। কিন্তু এসব নিয়ম নীতির কোন বালাই নাই। যার যার মত পৌরবাসি যত্রতন্ত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে পৌরসভাটিকে নোংরা শহরে পরিনত করছে। পৌরসভার গাছবাড়ি বা থানাপাড়া মহল্লার মো. তারা মিয়া বলেন, সুন্দরগঞ্জ বাজার হতে থানা রোড এবং তারাপুর রোডের ধারে দীর্ঘদিন হতে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ওই এলাকাটিকে দুর্গন্ধময় করে তুলেছে। বিশেষ করে বৃষ্টি-বাদলের দিনে রোড দুইটি দিয়ে চলাচল করা বিপদজনক। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং পথচারীগণ নাকে-মুখে হাত বা টিস্যু চাপা দিয়ে চলাচল করছেন।
ডাম্পিং স্টেশন থাকার পরও কেন এই ময়লা-আবর্জনা এভাবে সড়কের ধারে পড়ে থাকবে। সুন্দরগঞ্জ বাজারের মো. আব্দুস সামাদ মিঞা বলেন, বৃষ্টি-বাদলের কারনে সড়কের ধারের ময়লা-আবর্জনাগুলো উপজেলা পরিষদের পিছন দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তার শাখা নদী বা নালাতে মিশে যাচ্ছে। সে কারনে নদীর পানি নোংরা হচ্ছে। যথানিয়মে পৌরসভার বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে না। পৌরসভায় কোন সেবা পাচ্ছে না পৌরবাসি। পৌরসভার ব্যাটারি চালিত অটোচালক রাজু মিয়া বলেন, সড়কের ধারে ময়লা-আবর্জনা থাকার কারনে অনেক সময় দূর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। অনেক ময়লা-আবর্জনা সড়কের ওপরে পড়ে থাকে।
স্কুল শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধের কারনে সড়কগুলো দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। তাছাড়া সবগুলো ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় সুন্দরগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন পাড়া বা মহল্লার পানি বের হতে পারছে না। বর্জ্য অপসারণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শৈবাল এর প্রতিনিধি বলেন, তারা শুধু হাসপাতাল ও ডাস্টবিনের বর্জ্য অপসরণ করে থাকেন। তবে সবে মাত্র এ কাজ শুরু হয়েছে। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, পরিছন্নতাকর্মীর সংকটের কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অতিদ্রুত বর্জ্য অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।