• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১১-৮-২০২৬, সময়ঃ দুপুর ০২:৪১

ফুলছড়িতে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর



ফুলছড়ি প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে অস্থায়ী নিয়োগে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের একটি কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান তুহিন দৈনিক আমার সংবাদের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যভাণ্ডার প্রস্তুতের জন্য অস্থায়ীভাবে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর ফলাফল গত সোমবার রাতে প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অপসারণ ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা উপজেলা পরিষদ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। পরে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ সময় ভাঙচুর ও বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান তুহিন। তিনি জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন। এতে তিনি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকেরা নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ফুলছড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এরশাদুল হক বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে অস্থায়ী নিয়োগে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে নিয়োগ বাতিল এবং ইউএনওর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে কয়েকজন ইউএনওর কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুরের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।