সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তিন গ্রামে ফের পাগলা কুকুরের কামড়ে ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সেই সাথে দুইটি গরু ও দুইটি ছাগল কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে চারজন সুন্দরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আর দুইজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। আক্রান্ত অন্যারা পাশ্ববর্তী পীরগাছা ও রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে পুরো উপজেলায় কুকুর-শিয়ালের আক্রমন ও জলাতঙ্ক এবং অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক বিরাজ করছে। বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জব্বার বলেন, গত শনিবার রামধন গ্রামে হঠাৎ করে একটি পাগলা কুকুর ছুঁটে এসে একের পর এক মানুষ ও গরু ছাগলকে কামড় দিতে থাকে।
এভাবে কুকুরটি ছুঁটে চলে রামধন গ্রাম হতে জামাল গ্রাম হয়ে দেওডোবা গ্রামে। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৮ জনকে কামড় দেয়। সেই সাথে দুইটি ছাগল ও দুইটি গরুকেও কামড় দেয়। পরে এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে পাগল কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। আক্রান্তরা হলেন রামধন গ্রামের মো. আনজু মনোয়ারা বেগম, মো. আতোয়ার রহমান, জামাল গ্রামের মো. জহুরুল ইসলাম, মো. রুবেল মিয়া, মো. তোফাজ্জল হোসেন, দেওডোবা গ্রামের মো. ছবির হোসেন, মো. সোহাগ মিয়া ও মো. আব্দুল হান্নান মিয়া।
খবর পেয়ে শনিবার বিকালে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডাক্তার মো. মোজাম্মেল হকসহ একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা আক্রান্তদের নমুনা ও কুকুরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠান। পাশাপাশি আক্রান্ত গরু ও ছাগলকে টিকা প্রদান করেন। সেই সাথে আক্রান্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আক্রান্ত মো. আতোয়ার রহমান বলেন, তিনি বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলন। হঠাৎ কুকুরটি দৌড়ে এসে তার হাতে এবং মুখের মধ্যে কামড় দিয়ে ছুঁটে চলে যায়।
তিনি বলেন, কুকুরটিকে দেখে মনে হয়েছে এটি পাগল কুকুর। পরে তিনি সুন্দরগঞ্জ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. কামরুল হাসান বলেন, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চারজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে দুইজন ভর্তি রয়েছেন আর দুইজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। বাকীরা এই হাসপাতালে আসে নাই।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই একটি চিকিৎসক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেই সাথে আক্রান্তদের নমুনা ও কুকুরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এই মুহুর্তে জলাতঙ্ক জীবাণুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে কুকুরের শরীরে জলাতঙ্ক পজেটিভ কিনা।