মোস্তাফিজুর রহমান ►
আর মাত্র কয়েক দিন পরেই শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে গাইবান্ধায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। পুরুষের পাশাপাশি নিপুণ হাতে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেবদেবীর প্রতিমা তৈরি করছেন নারী শিল্পী ববিতা রানী বিশ্বাস। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় মাটির প্রতিমায় ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার অপরূপ রূপ। এদিকে পূজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। কোথাও চলছে রং করার প্রস্তুতি, আবার কোথাও ব্যস্ততা রঙের তুলির শেষ আঁচড় নিয়ে। এরই মধ্যে শহরের অস্থায়ী ১ নম্বর রেলগেট দুর্গামন্দিরের জন্য প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী শিল্পী ববিতা রানী বিশ্বাস। বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি কাঠামোর ওপর মাটির প্রলেপ দিয়ে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, কার্তিক, সরস্বতী, গণেশ ও অসুরের প্রতিমা গড়ে তুলছেন তিনি। ছেনি-হাতুড়ির কাজ থেকে শুরু করে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তোলা সবকিছুতেই রয়েছে তাঁর দক্ষতার ছাপ। মাটির কাজ শেষ হলে শুরু হবে রং করা এবং পোশাক ও অলংকার দিয়ে দেবীকে সাজিয়ে তোলার পর্ব।
প্রতিমা তৈরির মতো ঐতিহ্যবাহী পেশায় দীর্ঘদিন ধরে পুরুষদের প্রাধান্য থাকলেও ববিতা রানী বিশ্বাসের অংশগ্রহণ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। সংসারের দৈনন্দিন কাজ সামলে তিনি স্বামী ও ছেলের সঙ্গে প্রতিমা তৈরির কাজে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর এই শ্রম ও দক্ষতা নারীর কর্মক্ষমতা এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পে নারীর অংশগ্রহণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রতিমাশিল্পী ববিতা রানী বিশ্বাস জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর ছেলেও এ কাজে যুক্ত হয়েছেন। পরিবারের তিন সদস্য মিলে বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। তিনি বলেন, “এবার দুটি মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। মন্দিরভিত্তিক প্রতিমা তৈরির জন্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। এ ছাড়া বাড়িতে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমা তৈরি করে পূজার জন্য সরবরাহ করি। প্রতিমা তৈরির কাজ থেকে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসারের খরচ চালাতে সহায়তা করি।
ববিতা রানী বিশ্বাসের মতো প্রতিমাশিল্পীদের হাত ধরেই প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে প্রাণ ফিরে পায় মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য। তাঁদের নিপুণ কারুকাজে মাটির প্রতিমা হয়ে ওঠে পূজার মূল আকর্ষণ। সময়ের সঙ্গে এই শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, তেমনি ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা নির্মাণশিল্পকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের কাছে। উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমা তৈরির কর্মব্যস্ততা বাড়ছে গাইবান্ধার মন্দিরগুলোতে। শিল্পীদের প্রত্যাশা, তাঁদের শ্রম ও সৃজনশীলতায় তৈরি প্রতিমা পূজামণ্ডপগুলোতে ছড়িয়ে দেবে উৎসবের সৌন্দর্য ও আনন্দ।