• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

মোহনার অনুষ্ঠানে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দিলেন অনন্যা আচার্য্য

মোদাচ্ছেরুজ্জামান মিলু ►

দেশের একমাত্র ও নিয়মিত মাসিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মানেই গাইবান্ধার মোহনা। প্রতিমাসের প্রথম শুক্রবার গাইবান্ধা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় মোহনা নামের সংগীতানুষ্ঠান। প্রত্যেক অনুষ্ঠানে থাকে মোহনার বিভিন্ন চমক। এবারেও যেন সেই চমক দেখালো মোহনা। কী ছিলো সেই চমক? চমক ছিলো অনেক। এবারে মোহনার ১৮৮তম আসরে গান গেয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের জনপ্রিয় রেডিও ও টেলিভিশনের আর্টিস্ট অনন্যা আচার্য্য। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও শিল্পকলা একাডেমিতে তালিকাভুক্ত শিল্পী অনন্যা। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাস্ত্রীয় সংগীতে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করার পর বর্তমানে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এই অনন্যা আচার্য্য মোহনায় গান গাইবেন বলে দর্শক শ্রোতাদের মুখে মুখে কয়েকদিন আগে থেকেই নাম ছড়িয়ে পড়ে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় গাইবান্ধা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মোহনার এই সুরের মূর্ছনা। দর্শক উপচে পড়া মিলনায়তন হয়ে উঠেছিলো এক মিলনমেলার মিলনায়তন। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান। 

শুরুতে বিশিষ্ট গীতিকার, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক অধ্যাপক অমিতাভ দাশ হিমুনের উপস্থাপনায় মঞ্চে আসেন জাতীয় পর্যায়ের কণ্ঠশিল্পী অনন্যা আচার্য্য। সাথে আসেন যন্ত্র শিল্পীদের মধ্যে তবলা শিল্পী মাহমুদ সাগর মহব্বত, কি বোর্ড শিল্পী এস এম স্বাধীন, প্যাডের মানিক বর্মন, গিটারের তানভীর মাহতাব বৃত্ত ও বেজ গিটারের শিল্পী ইমতিয়াজ অভিন। আমাদের মাঝে থেকে গুণীজন যারা না ফেরার দেশে চলে গেছেন তাদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মরণে সকলে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করেন।

এদিকে অনন্যাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নিলেন মোহনার পক্ষে সোনালী ব্যাংকের সাবেক জিএম শেখ শাহ আলী মোসাদ্দেক। একের পর এক মোট ১৪টি জনপ্রিয় গান গাইলেন এই আসরে। নজরুল সংগীত, ঠুমরী-সহ গাইলেন যখন থামবে কোলাহল, ও আমার ময়না গো, চিঠি দিও প্রতিদিন-চিঠি দিও, নিঝুম সন্ধ্যায় পান্থ পাখিরা, তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়, ঠুমরী-জোছনা করেছে আড়ি, ওই গাছের পাতায় রোদের ঝিকিমিকি, শোনো গো দখিনো হাওয়া-সহ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান ও অন্যান্য গান পরিবেশ করেন। গান শেষে অনন্যাকে প্রতিবারের মতো সৃজনশীল বই উপহার দেন সংকলন লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী যামিনি রঞ্জন সেন। শিল্পীকে উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দিলেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড.মো. মনিরুজ্জামান।

এদিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসককে ফুলের তোড়া দিয়ে এবং উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে ভালোবাসা জানালেন মোহনার সভাপতি শাহ মশিউর রহমান। জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান যে একজন গুণী লেখক ও কবি তা আবিষ্কার করলেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক কবি অমিতাভ দাশ হিমুন। উপস্থাপকের কথায় দর্শকরা জানতে পারলো যে জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান এর লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘চোখের ভেতর যে নদী, অনিরুদ্ধ পঙত্তিমালা, সমুদ্র সংলাপ, হঠাৎ সন্ধ্যা আসে এক ইত্যাদি গ্রন্থের নাম। কবি অমিতাভ দাস হিমুন ড. মো. মনিরুজ্জামানের কবিতা আবৃত্তি করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিলেন জেলা প্রশাসকসহ সবাইকে। জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, ৩৩ বছরের এই সাংস্কৃতিক সংগঠন যেভাবে সাংস্কৃতিক আন্দোলন করে যাচ্ছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। তিনি আরো বলেন, শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চার মধ্যদিয়ে সংস্কৃতির চর্চার সমন্বয় করতে হবে। তিনি মোহনার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করেন।