অনলাইন ডেস্ক ►
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও নিম্নমুখী হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এবং জি৭ জোটের কৌশলগত মজুত থেকে জরুরি তেল ছাড়ার ঘোষণায় তেলের দাম সামান্য কমেছে। খবর গাল্ফ নিউজ
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৮৯ শতাংশ বা ১.৯৩ ডলার কমে ব্যারেল প্রতি ১০০.৩০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ০.২৮ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৯.১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আবুধাবির মারবান ক্রুডের দাম ১.৫৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১০৯.১০ ডলারে লেনদেন হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদক দেশগুলো রপ্তানি সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক তেল রফতানি ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে—যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির চেয়েও বেশি।
বাজারের এই দরপতনে বড় ভূমিকা রাখছে জি-সেভেন ভুক্ত দেশগুলোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। আগামী চার মাসে নিজেদের জরুরি রিজার্ভ থেকে ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ব্যারেল তেল ও জ্বালানি বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে জোটটি। যার মধ্যে প্রথম ২০ দিনেই বড় একটি অংশ ডিজেল সরবরাহ করা হবে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঘাটতি পূরণ ও মূল্যের ঊর্ধ্বগতি সামাল দিতে সাহায্য করবে।
তবে রপ্তানি বাড়লেও পরিবহন ও বীমা খরচ বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি বাজার এখনও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে বাড়তি লজিস্টিক ব্যয় ও নিরাপত্তা শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব স্তরের চেয়ে এখনও প্রায় ৪০ শতাংশ ওপরে রয়েছে।