• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

ফেল করেও পাশের সুযোগ পাচ্ছে ৫ লাখ শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক ►
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাবলিক পরীক্ষায় শুরু হচ্ছে সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষা। দেশের ২২ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম পাশ করার পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারও কম ছিল। আর এই অবস্থা থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা। এজন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর থেকে) শুরু হচ্ছে ফরম পূরণের কাজ। সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এক ও দুই বিষয়ে ফেল করা ৫ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৪ জন এই পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানদের সভায় এই সিদ্বান্তের কথা স্বীকার করে আন্ত:শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা আগামীকাল তথা ৫ নভেম্বর থেকে ফরম পূরণ শুরু করতে যাচ্ছি। প্রাথমিকভাবে ৭ তারিখ পর্যন্ত ফরম পূরণ করতে পারলেও তা হয়তো ১০ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে।

কিন্তু এই পরীক্ষায় কারা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এবছরের এইচএসসি পরীক্ষায় যারা এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছে শুধুমাত্র তারাই অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। আমাদের তালিকা অনুযায়ী এই সংখ্যা ৫ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৪ জন। এদের মধ্যে যারা ফরম পূরণ করবে তারাই অংশ নিতে পারবে।

এটি কি পুরোদমে বিকল্প একটি পাবলিক পরীক্ষা? এই প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ৩১টি বিষয়ের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন, পরীক্ষক, প্রধান পরীক্ষক নিয়োগ, ফলাফল তৈরি ও ফলাফল প্রকাশ পুরো আরেকটি পাবলিক পরীক্ষা। আমরা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে যাতে একটি বছর ঝরে না যায় সেজন্য এই সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষার আয়োজন করেছি। এরা এবারের এইচএসসি পরীক্ষার মূল পরীক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে।

৩১ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশ করলে কি তারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাসহ অন্যান্য উচ্চ শিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে আন্ত:শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের রুটিন অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করতে পারে।

সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ন শিক্ষার্থীরা ফলাফল প্রকাশের পর যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ পাবে সেগুলোতে আবেদন করবে। প্রতি উপজেলায় একটি করে কেন্দ্র যেহেতু সারাদেশে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে তাই পরীক্ষার কেন্দ্র কিভাবে নির্বাচন করা হবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা প্রতি উপজেলায় একটি করে কেন্দ্র নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়েছি। তারপরও পরীক্ষায় ফরম পূরনের পর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনা করে কেন্দ্র চূড়ান্ত করা হবে। তবে ১ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হলে আমরা সকাল-বিকাল পরীক্ষা নিয়ে ১৩ দিনে শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছি।’

পুন:মূল্যায়ন বা পুন:নিরীক্ষন আবেদন ও ফরম পূরণ একই সাথে করতে পারবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় যারা আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি তাদের একটি বিরাট অংশ পুন:নিরীক্ষন বা পুন:মূল্যায়নের জন্য আবেদনের সুযোগ রয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশের পর ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। এখন প্রশ্ন হলো যারা আবেদন করবে তারা কি ফরম পূরণ করতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি এক বা দুই বিষয়ে ফেল করে তাহলে তারা চাইলে পুন:নিরীক্ষণ বা পুন:মূল্যায়নের আবেদনের পাশাপাশি সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষায় ফরম পূরণ করতে পারবে। যদি তারা পুন:মূল্যায়নে কাঙ্খিত ফলাফল পেয়ে যায় তাহলে আর সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে না। কিন্তু যদি কাঙ্খিত ফলাফল না পায় পরবর্তীতে তো আর সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে পুন:নিরীক্ষণ বা পুন:মূল্যায়নের ফলাফল আমরা ২৫ বা ২৬ নভেম্বরের মধ্যে হয়তো প্রকাশ করতে পারি।

যারা অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে?

নিয়মিত ও অনিয়মিত উভয় শ্রেণির পরীক্ষার্থীরা এই সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে বলে জানা যায়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের যেসব অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছে তারাও এর আওতায় থাকবে। একইসাথে ২০২৬ সালের যেসব নিয়মিত পরীক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছে তারাও থাকবে এই তালিকায়।

এক ও দুই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ফেল ঢাকাবোর্ডে এদিকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় এক ও দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৪ জন ফেল করেছে। এরমধ্যে ঢাকা বোর্ডে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৫ জন, রাজশাহী বোর্ডে ৮১ হাজার ৬৫৯ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৯ হাজার ২৯৫, যশোর বোর্ডে ৬৭ হাজার ৪৬৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৪১ হাজার ২৪৮, বরিশাল বোর্ডে ২৫ হাজার ৭৫৪, সিলেট বোর্ডে ৩৫ হাজার ৯৩৮, দিনাজপুর বোর্ডে ৬২ হাজার ৪১৯ ও ময়মনসিংহ বোর্ডে ৩৫ হাজার ৯৫৮ জন ফেল করেছে।

বিষয়ভিত্তিক ফেলে শীর্ষে ইংরেজি

৩১টি বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৬ হাজার ২৮৬ জন। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডেই রয়েছে ৪৮ হাজার ৮১৭ জন, এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ৪২ হাজার ৮৩৫, যশোর বোর্ডে ৩৮ হাজার ৮৩০ জন। বিষয় ভিত্তিক ফেলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফেল করেছে আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫১৪ জন, এই ফেল করাদের মধ্যে শীর্ষে ঢাকা বোর্ডের ৩৬ হাজার ৯০১ জন ও রাজশাহী বোর্ডে ২৩ হাজার ১২৫ জন। এছাড়া অন্যান্য বিষয়গুলোর মধ্যে বাংলায় ২১ হাজার ৩৪৭, অর্থনীতিতে ২ হাজার ৯২৭, সমাজবিজ্ঞানে ১ হাজার ৫০৩ জন, যুক্তিবিদ্যায় ৪ হাজার ২৩৮ জন, মনোবিজ্ঞানে ৪৭ জন, ভূগোলে ২ হাজার ৫৩২ জন, পরিসংখ্যানে ৭১ জন, আরবীতে ৪ জন, সংস্কৃততে ২৪ জন, পদার্থ বিজ্ঞানে ১০ হাজার ৩৪২,রসায়নে ৭৭ হাজার ৪৬৬, জীববিজ্ঞানে ১২ হাজার ২৩৩, হিসাববিজ্ঞানে ১৮ হাজার ২৬২, উচ্চতর গণিতে ৯ হাজার ২৪৫, ইসলামের ইতিহাসে ৩ হাজার ১২১, পৌরনীতিতে ৮ হাজার ৫৪২, সমাজকর্মে ১ হাজার ১৯৪, ব্যবসায় সংগঠনে ১ হাজার ৯৩৬, উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় ৬৭৭ জন ও ফিন্যান্স ব্যাংকিংয়ে ৭০৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার সুযোগ পাবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। ইতোমধ্যে পরীক্ষায় যারা ফেল করেছে তাদের অনেকে পুন:নিরীক্ষনের জন্য আবেদনও করছে। তারাও এবারের সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষায় ফরম পূরনের সুযোগ পাবে।