ফুলছড়ি প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর অষ্টম আসরের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জমজমাট এ খেলাকে ঘিরে যমুনা নদীর তীরবর্তী মাঠে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ফাইনাল ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গত মঙ্গলবার বিকেলে ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের হরিচন্ডি এলাকায় যমুনা নদীর তীরবর্তী মাঠে এ ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা দেখতে দুপুর থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী দর্শক। তরুণ-যুবকদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরাও মাঠে উপস্থিত হয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন।
এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে সকাল থেকেই মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। খেলা শুরুর পর থেকেই দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন, ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার । প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান সাইদী সোহাগ। অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইদুর রহমান ও শাহ আলম মণ্ডল।
এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল খালেক মাস্টারের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান আকন্দ, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল, বালু সিড়ি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এস এম মাহমুদুল হাসান, ফুলছড়ি উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবু সাঈদ, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রবিউল হোসেন এবং এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব।
ফাইনাল খেলায় এরেন্ডাবাড়ীর ভাটিয়াপাড়া ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ দল মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা শেষে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। সেখানে ৩-২ গোলে জয় পায় ভাটিয়াপাড়া। পরে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি কামরুজ্জামান সাইদী সোহাগ ও আবুল সালাম সরকার। ফাইনাল ম্যাচ শেষে মাঠেই আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এতে দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা সংগীত ও বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন। তাঁদের পরিবেশনা উপভোগ করেন মাঠে উপস্থিত দর্শকেরা।
আয়োজকেরা জানান, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই প্রতিবছর এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে।