লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি ►
নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের পদ্মার চরবেষ্টিত দিয়ারসংকরপুরে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পলিশেড হাউজে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির উন্নতমানের সবজির চারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’ এর আওতায় চরাঞ্চলের কৃষিতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এখানে ২০০ বর্গমিটার আয়তনের দুইটি পলিনেট/পলিশেড হাউজ স্থাপন করা হয়েছে।
প্লাস্টিক ট্রে এবং কোকোডাস্টের মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বছরব্যাপী ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন ও মরিচসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের সবজির চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির ফলে চারাগুলো রোগমুক্ত ও সবল হওয়ার পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়া থেকেও সুরক্ষিত থাকছে।কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল সম্প্রতি পদ্মার চরের এই সবজি চারা উৎপাদন পলিশেড হাউজ পরিদর্শন করেন। চরাঞ্চলে নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চারা উৎপাদনের এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি কৃষকদের কল্যাণে সরকারের সার্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ জিয়াউর রহমান জানান, উপকারভোগী কৃষকদের প্রথমে আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রকল্প থেকে ৫০০টি ট্রে, ৩০০ কেজি কোকোডাস্ট এবং দুটি পলিশেড হাউজ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নির্মাণ করে দেওয়া হয়।উপকারভোগী স্থানীয় কৃষক মোঃ মাইনুল ইসলাম ও মোঃ শাহাবুদ্দিন জানান, এই শেড হাউসে উৎপাদিত চারা দিয়ে তারা নিজেরা যেমন জমিতে ফসল আবাদ করছেন, তেমনি কৃষক গ্রুপের অন্যান্য সদস্যদের মাঝে স্বল্পমূল্যে চারা সরবরাহ করছেন।
পাশাপাশি বাজারে প্রতিটি চারা উৎপাদন খরচের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন।পরিদর্শনকালে উপ-প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মাসুদুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার প্রীতম কুমার হোড়, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সুব্রত কুমার সরকারসহ স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।