• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

নেতানিয়াহুর ভাষণে কূটনীতিকদের ওয়াকআউট

অনলাইন ডেস্ক ►
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠলে এক নজিরবিহীন প্রতিবাদের ঘটনা ঘটে।  খবর বিবিসির।

গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে আরব, মুসলিম, আফ্রিকান ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি দল একযোগে সভাকক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন। নেতানিয়াহু পোডিয়ামে দাঁড়ানোর পর সভাকক্ষে উপস্থিত বহু কূটনীতিক ভুয়ো ও দুয়োধ্বনি তুলে প্রতিবাদ জানান, যা সামলাতে অধিবেশনের সভাপতিকে বারবার শৃঙ্খলার আহ্বান জানাতে হয়। তবে ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল ও তার সমর্থকদের করতালির মধ্য দিয়েই তিনি ভাষণ শুরু করেন।

নেতানিয়াহুর কড়া অবস্থান ও বক্তব্য:
ভাষণের শুরুতেই ওয়াকআউটকারী কূটনীতিকদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, এই কক্ষে যদি আরও কোনো নৈতিক কাপুরুষ থেকে থাকেন, তবে আপনারাও এখন বেরিয়ে যেতে পারেন।

ভাষণে উপস্থাপিত মূল বিষয়সমূহ:
গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের আনা গণহত্যার অভিযোগকে তিনি শক্তভাবে নাকচ করে এটিকে অসত্য বক্তব্য বলে অভিহিত করেন।

সাতটি ফ্রন্টে যুদ্ধ:  তিনি দাবি করেন, বর্তমানে হামাস, হিজবুল্লাহ, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গোষ্ঠীসহ মোট সাতটি ফ্রন্টে নিজেদের রক্ষায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা: ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বৈশ্বিক সুরক্ষার জন্য তাঁর নেওয়া সবচেয়ে সহজ ও অবশ্যম্ভাবী সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল।

আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি:
এই ওয়াকআউটের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের গভীর মেরুকরণকে স্পষ্ট করে তুলেছে। গাজায় দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসরায়েল তীব্র চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।

অধিবেশন চলাকালে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা ও ফ্রান্সসহ একাধিক দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে নেতানিয়াহু তার কঠোর বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা বহাল থাকা এবং নিউ ইয়র্কের রাজপথে সাধারণ মানুষের তীব্র বিক্ষোভের আবহেই তিনি এই ভাষণ প্রদান করেন।