অনলাইন ডেস্ক ►
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আজ শনিবার রাজধানী দিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে এই আন্দোলন করছে দলটি। তবে দিল্লি পুলিশ আগেই জানিয়ে দিয়েছে, এই কর্মসূচির কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সিজেপি-র আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে এক ভিডিও বার্তায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের জেলে ঢোকান বা গুলি করুন, আমরা পিছু হটবো না। অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও যে কোনো মূল্যে তারা যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর সিদ্ধান্তে অটল।
বিক্ষোভ রুখতে দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে। রাজধানী জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে ৩০০টিরও বেশি সিসি ক্যামেরা। যন্তর মন্তর এলাকার চার কিলোমিটার জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। শনিবার ভোর ৪টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত দিল্লিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন হোটেল ও ছাত্রাবাসে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের আটকের জন্য তৈরি রাখা হয়েছে কয়েকশ বাস ও বেশ কয়েকটি স্টেডিয়াম।
বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত মন্তব্য করেছে, একটি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না। প্রশাসনের এই বিশাল আয়োজনে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে রাজধানী দিল্লি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা