নিজস্ব প্রতিবেদক ►
গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের দরিদ্র, অসহায় ও নদীভাঙনকবলিত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে এসকেএস ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তহবিল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১৫ লাখ টাকার প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী বিতরণ করা হবে। গতকাল শনিবার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালীস্থ এসকেএস রিসোর্স সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা- ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ।
অনুষ্ঠানে প্রথম ধাপে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিদের কাছে ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকার ওষুধ হস্তান্তর করা হয়। এসকেএস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান রাসেল আহমেদ লিটনের সভাপতিত্বে ও পাবলিক রিলেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সমন্বয়কারী মো. আশরাফুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইলতুতমিশ আকন্দ, ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রুহুল আমিন, সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম, সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন এবং ফুলছড়ি উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম আকন্দ প্রমুখ।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ বলেন, চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এসকেএস ফাউন্ডেশনের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসকেএস ফাউন্ডেশনের এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, দরিদ্র মানুষের দোড়গোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের পাশাপাশি এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কষ্ট লাঘবে বড় ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আশরাফুল কবীর বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে স্থানীয় পর্যায়ে আরও বেশি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে এসকেএস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান রাসেল আহমেদ লিটন বলেন, প্রাথমিকভাবে চরাঞ্চলের মানুষের জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চরের মানুষ নানা দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওষুধের সংকট নিরসন ও চিকিৎসাব্যয় কমিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসার দুশ্চিন্তা কমাতে এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট ঔষধগুলো বিতরণের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের হাজারো মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।