নিজস্ব প্রতিবেদক ►
“তথ্যের অধিকার সুশাসনের হাতিয়ার, তথ্যই শক্তি” এই প্রত্যয়ে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ বিষয়ে স্যাটেলাইট ক্যাম্পেইন ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), গাইবান্ধার আয়োজনে এবং ইয়েস ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সনাক গাইবান্ধার সভাপতি আফরোজা বেগম লুপু। এসময় সম্মানিত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাজহারউল মান্নান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি তথ্য অধিকার আইন কেন জানা প্রয়োজন এবং এর মাধ্যমে কীভাবে নাগরিকরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করেন।
গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুর রশিদ বলেন, “তথ্য আমাদের জানতে হবে। সঠিক তথ্য জানা থাকলে আমরা দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সচেতন হতে পারব এবং প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি কমবে| তাই শিক্ষার্থীদের তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানা এবং এর যথাযথ প্রয়োগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। অনুষ্ঠানে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ে আলোচনা করেন গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো. মাসুদুর রহমান| তিনি তথ্য পাওয়ার অধিকার, তথ্য চাওয়ার প্রক্রিয়া এবং জনস্বার্থে তথ্য অধিকার আইনের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক আবু সাঈদ মন্ডল, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাবুল আকতার, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম আজাদ এবং দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবিএম জিল্লুর রহমান। সনাক গাইবান্ধার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও পরামর্শ ডেক্সের আহ্বায়ক নাহিদ হাসান চৌধুরী রিয়াদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইয়েস আহ্বায়ক শিরিন আকতার। পাশাপাশি তারুণ্যদীপ্ত ইয়েস সদস্যরা কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কুইজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তথ্য অধিকার, নাগরিক অধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিষয়ে জ্ঞান ও আগ্রহ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, তথ্য জানা নাগরিকের অধিকার তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এ ধরনের সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও কুইজ প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।