• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে সরকারি অফিসের কার্যক্রম

নীলফামারী প্রতিনিধি ►
ভবন ধ্বসে পড়ার ঝুঁকি নিয়েই চলছে সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ ৪ টি অফিসের  কার্যক্রম। প্রায়ই অফিস চলাকালে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরেও জমি রেজিষ্ট্রি করার সময় রেজিষ্ট্রারের মাথার উপর থেকে পলেস্তারার বড় খন্ড ধ্বসে পড়ে। জানা যায়, ১৯৮২ সালে নির্মিত হয় এই ভবনটি। তখন থেকে ২০২৬ পর্যন্ত কোন প্রকার সংস্কার না হওয়ায় ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে একাধিক বার একাধিক জন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে নির্ধারিত এজলাস ছেড়ে পাশের কক্ষে বসে কাজ করছেন খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার।

একইভাবে ওই ভবনে অবস্থিত সহকারী সেটেলমেন্ট অফিস,  উপজেলা সমবায় অফিস ও পরিসংখ্যান অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরাও এই ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। সবাই চরম আতঙ্কে ও ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। সহকারী রেজিস্ট্রার আব্দুর বউফ বলেন, এখানে ফাইল রাখার কোনো জায়গা নেই। মূল্যবান দলিলপত্র ভিজে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।এরপরও কোটি কোটি টাকার ফাইলপত্র পলিথিন মুড়িয়ে রাখা হচ্ছে।

তিনি জানান, মাত্র চারটি কক্ষে অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই ভবনে সহকারী সেটেলমেন্ট, পরিসংখ্যান ও সমবায় কার্যালয়ও রয়েছে। নকলনবিশসহ প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কাজ করেন। নকলনবিশ আব্দুল আউয়াল বলেন, আমরা বারান্দায় বসে কাজ করছি। মাথার ওপর থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এরপরও ভবনটি মেরামত করা হচ্ছেনা। অফিসে টয়লেট বা ওয়াশরুমের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে যেতে হয়। এতে দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত ঘটে বলে জানান তিনি।

অফিস সূত্র জানায়, সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলে। ওই দুই দিন জমি ও দলিল-সংক্রান্ত কাজে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। কোনো কোনো দিন প্রায় হাজার খানিক মানুষ আসেন এই অফিসে। এছাড়াও অন্য দিনগুলোতেও সেবা নিতে লোকজনের উপস্থিতি থাকে অনেক। আর অন্য চারটি অফিসে প্রতিদিনই কার্যক্রম চলমান থাকায় প্রতিনিয়ত লোকজন আসেন প্রয়োজনে। তারাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মাঝে মধ্যেই।  

সাব রেজিস্ট্রারের অফিস থেকেই সরকার প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সংস্কার হয়নি ভবনটির। নতুন ভবনের প্রয়োজন থাকলেও নিজস্ব জমি না থাকায় বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ধ্বসে পড়তে পারে। তাই আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছি। ভবনটির কারিগরি নিরাপত্তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন ভবনের ব্যবস্থা করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।