অনলাইন ডেস্ক ►
ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার গেলোরা বাঙ কর্নো স্টেডিয়ামে বেলা ৩টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের ডিভিশন ওয়ানে এ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করার জন্য সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই হামজা-সামিতদের।
টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে মালয়েশিয়ার কাছে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে হামজা-সামিতদের সঙ্গে খেলেন নতুন তিন প্রবাসী ফুটবলার ফারহান, জিদান ও সুকি। তারপরও ম্যাচজুড়ে মালয়েশিয়ার আক্রমণের সামনে অসহায় ছিল বাংলাদেশ। তবে ডিফেন্সে হামজারা দুর্দান্ত পারফর্ম করায় আরও বড় পরাজয় থেকে বেঁচে যায় থমাস ডুলির শিষ্যরা। সেই ম্যাচের পর কোচ শিষ্যদের প্রশংসাই করেছিলেন। এবার নতুন পরীক্ষা। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে কী অপেক্ষা করছে?
হামজা চৌধুরীগত মার্চে সিঙ্গাপুরের মাঠে গিয়ে দারুণ খেলা উপহার দিয়েছিলেন হামজা চৌধুরীরা। সেই ম্যাচে সিঙ্গাপুরের গোলমুখে বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। তবে ১-০ গোলে হেরে যান হামজারা। সেই ম্যাচের পর বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তারা। এর আগে ২০২৫ সালে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামেও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ভালো খেলেও পরাজিত হয় বাংলাদেশ। ঢাকার মাঠে হেরেছিল ২-১ গোলে। গত দুই ম্যাচে পরাজয়ের সেই স্মৃতি এখনো নিশ্চয়ই তাড়িয়ে বেড়ায় হামজাদের। এবার ইন্দোনেশিয়ার মাঠে সুযোগ অপেক্ষা করছে প্রতিশোধ নেওয়ার। বাংলাদেশ কি প্রতিশোধ নিতে পারবে?
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে প্রথমবার ফুটবল মাঠে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয় ১৯৭৩ সালের আগস্টে। সেবার মারদেকা কাপের ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছিল লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। এরপর ২০১৫ সালে আরও একবার দেখা হয় দুই দলের। বাংলাদেশ হেরে যায় ২-১ গোলে। ফুটবল মাঠে এখনো সিঙ্গাপুরকে হারাতে পারেনি দলটা। এবারে কি ভাগ্য খুলবে? ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১৮২ নম্বরে নেমেছে। এক ধাপ অবনমন হয়েছে র্যাঙ্কিংয়ে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর আছে ১৪৮ নম্বরে। র্যাঙ্কিংয়ে ব্যবধান থাকলেও দুই দলের পারফরম্যান্সে খুব বেশি পার্থক্য নেই। আজ সেই ব্যবধান কি ঘুচিয়ে নিতে পারবে বাংলাদেশ?
গত কয়েক বছর ধরেই ফুটবলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। জামাল ভূইয়া, তারিক কাজীদের পথ ধরে প্রবাসী ফুটবলারদের নতুন একটা দল যুক্ত হয়েছে ফুটবলে। তারপরও ফলাফলে এর প্রভাব পড়ছে খুব কমই। তবে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে ফুটবলে। হামজাদের সঙ্গে যোগ হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা বাড়িয়ে নিচ্ছেন তারা। জাপানে বেড়ে উঠার ফুটবলার সুকি ইতোফুসা যেমনটা বলেছেন, ‘আমাদের মধ্যে ভাষার একটা দূরত্ব আছে। তবে আমাকে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসে অন্যরা। ইংরেজি আর ইশারা দুই পদ্ধতিতেই যোগাযোগটা হচ্ছে এখন। আর ভাষার দূরত্বটাও কমে যাচ্ছে।’
ইতোফুসার মতোই অন্যরা জাতীয় দলের অন্যদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে ফারহান আলি ওয়াহিদ। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই প্রবাসী ফুটবলার গত বছরও ছিলেন ফুলহ্যামে। এই বছর খেলছেন বোরহ্যাম উডে। ফরোয়ার্ড লাইনে তিনি ভবিষ্যতের তারকা ফুটবলার হয়ে উঠতে পারেন বাংলাদেশে। সুকি ইতোফুসাও ফরোয়ার্ড লাইনে খেলেন। এ ছাড়াও আছেন ডিফেন্ডার জিদান ইউসুফ। প্রবাসী ও স্থানীয় ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়াটা ঠিক হয়ে গেলেই হয়তো নতুন এক বাংলাদেশকে দেখা যাবে ফুটবলে! সেই আশাতেই কাজ করে চলেছেন হেড কোচ থমাস ডুলি।
বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। এই আশা কতদিন তারা ধরে রাখতে পারবেন, বলা কঠিন। গত বছর ভারতকে হারানোর পর স্বপ্নের আকার এখন অনেক বেড়েছে। এই স্বপ্নও কতদিন তারা দেখতে পারবেন, বলা যায় না। হামজাদের কাছ থেকে দ্রুতই কোনো সুখবর খুব প্রয়োজন বাংলাদেশের ফুটবলে। সেই সুখবর আসতে পারে আজই! সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে!