গোপাল মোহন্ত ►
কীটনাশক ছাড়াই ফসলের পোকা ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমন করার কৌশল হিসেবে গ্ইাবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে আলোক ফাঁদ। এতে কৃষকের ফসল উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি ছাড়াই উৎপাদিত হচ্ছে ফসল। কৃষকরা জানান, ফসলের জমিতে সন্ধ্যার পর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালানো হয়। এর ঠিক নিচে রাখা হয় পানিভর্তি পাত্র। পানিতে মেশানো হয় সামান্য ডিটারজেন্ট বা সাবানের গুঁড়া। আলোতে আকৃষ্ট হয়ে পোকা পানিতে পড়ে আর সেখানেই আটকে যায়। ফসলের জমির পাশে অপেক্ষাকৃত পোকার আক্রমণ বেশি এমন স্থানে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়। আলোর আকর্ষণে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় এসে পড়ে ফাঁদের পাত্রে।
এতে কোন জমিতে কী ধরনের ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি রয়েছে, তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কৃষি বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, শুধু পোকা শনাক্তই নয়, পোকার ধরন ও সংখ্যা দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় কমছে অপ্রয়োজনীয় কীটনাশকের ব্যবহার। আর নামমাত্র খরচে ফসলের পোকা দমন এবং পরিবেশের ক্ষতি ছাড়াই ফসল উৎপাদন হওয়ায় বেড়েছে আলোক ফাঁদ এর ব্যবহার।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান বলেন, ফসলের ক্ষতিকর পোকা আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ফাঁদে আটকা পড়ে। তাই নিয়মিত আলোক ফাঁদ পর্যবেক্ষণ করে পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা গেলে শুরুতেই নেওয়া যায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
এ ব্যাপারে উপজেলা কুষি অফিসার ইমরুল কায়েস বলেন, এই উপজেলার ৫২টি ব্লক রয়েছে। প্রতিটি ব্লকে ১০টি করে আলোক ফাঁদের নির্দেশনা রয়েছে। এসব বাস্তবায়নের উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছে। এ সব পয়েন্টে কৃষকদের কাছে তাই এখন আলোক ফাঁদ শুধু পোকা ধরার কৌশল নয়, ফসল রক্ষায় হয়ে উঠছে সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর এক হাতিয়ার।