• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

খানসামায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে সাফল্য ময়েজ উদ্দীনের

সুলতান মাহমুদ,দিনাজপুর ►
দিনাজপুরের খানসামায় প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন কৃষক ময়েজ উদ্দিন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় আধুনিক জাতের শিম চাষ করে এরই মধ্যে ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি। তাঁর সাফল্য দেখে একই এলাকার অন্য কৃষকরাও গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

উপজেলার সিট আলোকডিহি গ্রামের কৃষক ময়েজ উদ্দিন চলতি খরিপ-২/২০২৬-২৭ মৌসুমে দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করেন। ২০ শতক জমিতে চাষ করা শিমগাছ এখন ফুল ও ফলে ভরে উঠেছে। মাচাজুড়ে ঝুলছে কচি শিম। প্রতিদিনই ক্ষেত পরিচর্যা, শিম সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

সরেজমিনে  দেখা যায়, সবুজে ভরা শিমক্ষেতের মাচায় সারি সারি শিম ঝুলছে। ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক ময়েজ উদ্দিন। গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে শিমের ফলন ও বাজারদর ভালো পাওয়ায় তাঁর মুখে সন্তুষ্টির ছাপ।

কৃষক ময়েজ উদ্দিন বলেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ও লাভজনক ফসল চাষের চিন্তা থেকেই গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের উদ্যোগ নেন তিনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং প্রকল্পের সহযোগিতায় ২০ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ শুরু করেন। শুরুতে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও ফলন ও বাজারদর ভালো পাওয়ায় এখন তিনি আশাবাদী।

তিনি জানান, ২০ শতক জমিতে শিম চাষে এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বর্তমান ফলনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি শিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪২ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।

ময়েজ উদ্দিনের শিম চাষ দেখে একই এলাকার অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁর সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে কৃষক কায়েসসহ কয়েকজন কৃষক চলতি মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করেছেন। ফলে এলাকায় এ ধরনের সবজি চাষের পরিধি বাড়ছে। কৃষকেরাও প্রচলিত ফসলের বাইরে বিকল্প ও লাভজনক ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল বিন আমিন বলেন, ময়েজ উদ্দিনের শিমক্ষেতে নিয়মিত পরিদর্শন করে পরিচর্যা, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি গ্রীষ্মকালীন চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এ সময়ে ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে বেশি উৎপাদন ও লাভ করতে পারেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, জলবায়ু ও মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসলের বৈচিত্র্য আনা এবং একই জমি থেকে অধিক লাভ নিশ্চিত করাই কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের ফসল চাষে উৎসাহিত করার অন্যতম লক্ষ্য। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন শিমের মতো বিকল্প সবজি চাষ কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে।