অনলাইন ডেস্ক ►
কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে অপহরণের পর ধর্ষণের সংবাদ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বুধবার রাতে দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে তাজমিন যখন বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে, তখন থেকেই অশুভ ছক কষে চালক। নির্জন রাস্তা পেয়ে চালক তাকে গন্তব্যে না নিয়ে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়। বিপদ বুঝতে পেরে তাজমিন নিজের হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাবার কাছে ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়ে সাহায্যের আকুতি জানায়। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সেই বার্তাটি সময়মতো দেখতে পাননি।
পরবর্তীতে অটোরিকশাটি লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মেয়েটি পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। ঘটনাস্থলে তাকে ধর্ষণের পর গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর ঘাতক সুমন অটোরিকশাটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পুলিশ পরে চালকের তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করে।
উল্লেখ্য, তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা কুমিল্লায় পেশাগত কারণে সপরিবারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। পরে গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাইয়ের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের বাবার দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির প্রক্রিয়া চলছে।