• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

কাগজের ঠোঙা বানিয়ে স্বাবলম্বী কিসমত ভূইপাড়ার নারীরা

সুলতান মাহমুদ
দিনাজপুরে ঘরে বসেই  ছোট-বড় নানা আকৃতির কাগজের ঠোঙা তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে কিসমত ভুইপারার নারীরা। আর বাড়তি আয় দিয়ে কেউ সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটাচ্ছেন, কেউ করছেন সংসারের প্রয়োজনীয় ব্যয়। এতে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন গ্রামের নারীরা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিসমত ভূইপাড়ার প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পরিবারে নারীরা দীর্ঘদিন ধরে কাগজের ঠোঙ্গা তৈরির সঙ্গে যুক্ত। দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী তাদের বাড়িতে সাদা ও খাকি কাগজ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করেন। পরে নারীরা সংসারের কাজের ফাঁকে সেসব কাগজ দিয়ে নির্ধারিত মাপের ঠোঙা তৈরি করেন।

কাজ শেষ হলে সরবরাহকারীরাই বাড়ি থেকে তৈরি ঠোঙা সংগ্রহ করে নিয়ে যান। ঠোঙা তৈরিতে কাগজের এক পাশ বন্ধ করতে ময়দা দিয়ে তৈরি বিশেষ আঠা ব্যবহার করেন তারা। ছোট, মাঝারি ও বড়—বিভিন্ন মাপের ঠোঙা তৈরি করা হয়। প্রতি ১০০টি ঠোঙা তৈরির জন্য ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। একজন দক্ষ নারী দিনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০টি ঠোঙা তৈরি করতে পারেন। এতে দৈনিক প্রায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। মাসে অবসর সময়ের এই কাজ থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি আয় করছেন অনেকে। জানা গেছে, কিসমত ভূইপাড়ার নারীদের তৈরি এসব কাগজের ঠোঙা দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন কসমেটিকসের দোকান, মিষ্টির দোকান ও হোমিওপ্যাথিক ওষুধের দোকানে ব্যবহৃত হয়। ছোট ছোট ওষুধ, পুরিয়া কিংবা বিভিন্ন সামগ্রী গ্রাহকের হাতে তুলে দিতে এসব ঠোঙা ব্যবহার করেন ব্যবসায়ীরা।

৭০ বছর বয়সী জাহানারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে কাগজের ঠোঙা তৈরি করছেন। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সাইজের ঠোঙা তৈরি করতে পারি। এ কাজের জন্য কোনো প্রশিক্ষণ নিইনি। অন্যদের কাজ দেখে এবং শাশুড়ির কাছ থেকে দেখেই প্রথমে ঠোঙা বানানো শিখেছি। প্রশিক্ষণ পেলে কাজটি আরও ভালোভাবে করা সম্ভব হতো। একই এলাকার মেহেরুন্নেসা বলেন, ‘সংসারের কাজ শেষ করার পর যে সময়টুকু হাতে থাকে, তখন ঘরে বসেই ঠোঙা তৈরি করি। এতে বাড়তি কিছু টাকা আয় হয়। সেই টাকা দিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ নিজের প্রয়োজনীয় কিছু খরচ মেটাতে পারি। ঘরে বসে কাজ করা যায় বলে আমাদের জন্য এটি বেশ সুবিধার।

আরেক নারী ফারজানা বেগম বলেন, ‘আমার দুটি সন্তান। তাদের লেখাপড়া ও সংসারের কাজ সামলে অবসর সময়ে এই কাজ করি। সরবরাহকারী ব্যবসায়ীরা আমাদের বাড়িতে কাগজ দিয়ে যান। কী ধরনের ঠোঙা তৈরি করতে হবে এবং কখনের মধ্যে দিতে হবে, সেটিও বলে দেন। আমরা কাজ শেষ করে দিলে তারা বাড়ি থেকে নিয়ে যান এবং কাজের পরিমাণ অনুযায়ী পারিশ্রমিক দিয়ে যান। কাগজ সরবরাহকারী ফাইজুর রহমান বলেন, ‘কিসমত ভূইপাড়া গ্রামের প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পরিবার এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। আমরা তাদের কাগজ ও ময়দা সরবরাহ করি। তারা ময়দা গুলিয়ে আঠা তৈরি করে কাগজের এক পাশ লাগিয়ে ঠোঙা তৈরি করেন।

প্রতি ১০০টি ঠোঙার জন্য ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। একজন নারী দিনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০টি ঠোঙা তৈরি করতে পারেন। যে যত বেশি ঠোঙা তৈরি করতে পারেন, তার আয়ও তত বেশি। ক্যাপশন: দিনাজপুর সদরের কিসমত ভূইপাড়ার নারীর ঠোঙ্গা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন