• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

আবু সাঈদের জন্য এক কোটি টাকা আর্থিক অনুদান ঘোষণা

পীরগঞ্জ  প্রতিনিধি ► 
শহীদ আবু সাঈদকে গণঅভ্যুত্থানের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, বাবা-মায়ের থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রংপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মীর মাহে আলম। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি বলেন,উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা দূর করতে সরকার কাজ করছে। আবু সাঈদের আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, এটি তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতার জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নামিয়েছিল, তা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আবু সাঈদ আমাদের অনুপ্রেরণা। তাঁর আত্মত্যাগ তরুণদের মাঝে, সমাজের মাঝে এবং ছাত্র-জনতার মাঝে একটি আন্দোলনকে প্রজ্বলিত করেছিল। সেই আন্দোলনে সারা দেশের লাখো মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল।’

উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রতি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, স্বাস্থ্য কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান ও খেলাধুলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানদের এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে আগামী চার বছরের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কৃষকদের ভূমিহীন, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিবেচনা করে তাদেরকে কার্ড প্রদান করা হবে। এজন্য তাদের কোন তদবিরের প্রয়োজন নেই বলে জানান। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, মাসের প্রথম সপ্তাহে ইমাম- মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর চিন্তা করছে সরকার। এর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে তেল-গ্যাসের বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য সরকার দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সাময়িক অসুবিধার কথা জানিয়েছেন। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিরোধীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘লংমার্চ করে কখনো সমস্যার সমাধান হবে না।

আপনাদের কোনো সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলুন।’ একই সঙ্গে সরকারের সফলতা- ব্যর্থতা মূল্যায়নের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের বীর। আমরা আবু সাঈদকে ছড়িয়ে দিতে চাই।’ তাঁর বাড়ির উন্নয়ন ও কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ঘোষিত এক কোটি টাকা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি। এ জন্য জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলেন। এ ছাড়া রংপুর স্টেডিয়ামকে শহীদ আবু সাঈদের নামে করার আগ্রহের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম ইতোমধ্যে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে। ফেরার পথে মন্ত্রী পীরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজ,আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কসিমন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে তিনি পৃথক পৃথক ভাবে মত বিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর সাথে ছিলেন।