• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৫-১০-২০২৫, সময়ঃ সকাল ১০:২২

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক►

আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিনটি উদযাপিত হচ্ছে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে। এবারের শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিক্ষকতা পেশা মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি।’

শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করার এবং তাদের সম্মান জানানোর এই দিনটি প্রতি বছরই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

১৯৯৪ সাল থেকে ইউনেস্কোর উদ্যোগে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে এই দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালন শুরু হয়। ইউনেস্কোর অনুমোদনে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না, তিনি সমাজ গঠনের স্থপতি। একজন শিক্ষকই শিক্ষার্থীর চরিত্র, নৈতিকতা ও চিন্তাশক্তি গড়ে তোলেন। তার পরামর্শ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা মানুষকে জীবনের সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে। বলা হয়ে থাকে—’একজন ভালো শিক্ষক একটি জাতিকে বদলে দিতে পারেন।’

বাংলাদেশেও আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মিলনমেলা, সম্মাননা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ১২ জন শিক্ষককে দেওয়া হবে সংবর্ধনা। এজন্য প্রাথমিকভাবে ৩৬ জন শিক্ষককে নির্বাচিত করা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন বিশ্বদ্যিালয়, কলেজ, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের বাছাই করা হয়।

এই দিনে আমরা মনে করিয়ে দিই, একজন শিক্ষকের পরিশ্রমের পেছনেই লুকিয়ে থাকে সমাজের অগ্রগতি। তাদের সম্মান জানানো শুধু একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সারাবছরই তাদের অবদানকে মূল্যায়ন করার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস

অনলাইন ডেস্ক ►
চক-ডাস্টারের আঁচড়ে নতুন এক প্রজন্ম গড়ে তোলার কারিগরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন আজ, ৫ অক্টোবর। প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানকে সম্মান জানাতে এবং তাঁদের পেশাগত পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্বকে সবার সামনে তুলে ধরতে দিনটি উদযাপন করা হয়। তবে ২০২৬ সালের এই উদযাপনটি বিশ্বজুড়ে সাধারণ কোনো বর্ষপূর্তি নয়—এটি শিক্ষকতা পেশার জন্য একটি বিশেষ ঐতিহাসিক মাইলফলক।

ঠিক ৬০ বছর আগে, ১৯৬৬ সালের এই দিনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং ইউনেস্কোর এক বিশেষ সম্মেলনে শিক্ষকতার মানদণ্ড নির্ধারণে একটি যুগান্তকারী সুপারিশ গৃহীত হয়েছিল। সেখানে নির্ধারণ করা হয় শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং তাদের কর্মপরিবেশের আন্তর্জাতিক মান।

পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে উচ্চশিক্ষার শিক্ষকদেরও এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিক উদযাপনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সাল থেকে। সেই হিসেবে এবার আমরা পার করছি এই ঐতিহাসিক সুপারিশের ৬০ বছর। আইএলও, ইউনিসেফ ও এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালের যৌথ অংশীদারিত্বে আয়োজিত এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: ‘শিক্ষকদের পাশে: পেশা সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর’।

বিগত ছয় দশকে বদলে গেছে পৃথিবীর রূপ, সেই সঙ্গে বদলেছে শিক্ষার প্রেক্ষাপটও। বর্তমানে শিক্ষকদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে একের পর এক নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, অন্তর্ভুক্তি এবং অভিবাসনের মতো জটিল চ্যালেঞ্জের। প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে আয়োজিত বৈশ্বিক উদযাপনে আজ কেবল শিক্ষকদের অবদানের প্রশংসাই করা হবে না; সেখানে শিক্ষকতার মর্যাদা রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য আয়োজিত হবে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। একই সঙ্গে শিক্ষক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য প্রদান করা হবে ‘ইউনেস্কো-হামদান পুরস্কার’-এর নবম সংস্করণ।

শিক্ষকেরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই বিতরণ করেন না, বিশ্বকে বদলানোর মূল শক্তি যোগান তারাই। আজকের এই দিনে কেবল তাদের প্রতি ভালোবাসা জানানোই যথেষ্ট নয়; নীতিনির্ধারক ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে এমন এক পরিবেশ গড়ে তুলতে—যেখানে প্রতিজন শিক্ষক পূর্ণ পেশাগত নিরাপত্তা, সম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কারিগর হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেন।