এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ ►
শীতের আগাম বার্তা প্রতিদিন সকালে উঁকি দিচ্ছে গ্রাম-গঞ্জের কোহলমুক্ত সবুজে ঘেরা প্রকৃতির কাছে। এরই মধ্যে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার কলেজ মোড়ের বিশাল আকৃতির একটি রেইনট্রি গাছে অচেনা পাখি ঠিকানা করে নিয়েছে আপন মহিমায়। মোড়ের মধ্যে আসলেই কানে ভেসে আসছে সেই অচেনা পাখির কিচিরমিচির শব্দ। আর তখনেই সকল নজর গাছের আগালে। গাছের মগডালে শত শত অচেনা পাখি বাসা বেঁধেছে নিজের মত করে। গলায় কালো ডোরা সাদা রঙের এসব পাখি গাছের এপাশ ওপাশ উড়ছে অবিরত। এযেন নৈসর্গিক দৃশ্যে পরিনত হয়েছে। যারাই মোড়ে আসছেন তারাই তাকাচ্ছেন অচেনা অতিথি পাখির দিকে। সেই সাথে উসুক মানুষের ভির চোখে পড়ারমত।
মোড়ের জননী কম্পিউটারের পরিচালক মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, এক বছর আগে একঝাক অচেনা পাখি এসে আশ্রয় নেয় গাছটিতে। এরপর আস্তে আস্তে আশপাশের গাছে হাজারও পাখি আশ্রয় নিয়ে বাসা বােঁধ। প্রতিটি বাসায় অসংখ্য বাচ্ছা রয়েছে। পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে মোড়ের ব্যবসায়ীরা এখন অভ্যস্ত হয়ে পরেছে। মোড়ে আসা মানুষজন পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনে এক নজর তাকাচ্ছেন গাছের মগডালে। সারাদিন এদিক ওদিক ছুেঁট গিয়ে খাবার সংগ্রহ করে আবার ফিরে আসছে গাছের ডালের খড়কুঁটার বাসায়। উপজেলা পরিষদের পিছনের খাল এবং তিস্তা নদীতে গিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করছে ওরা। এখন পর্যন্ত পাখি প্রেমী এবং শিকারীরা হানা দিতে পারেনি। মোড়ের ব্যবসায়ীরা এনিয়ে অত্যন্ত সর্তকা অবস্থানে রয়েছে।
পাখি দেখতে প্রতিদিন হাজারও লোকজন আসেন। কেউ ছবি তুলেন, কেউ পাখির কিচিরমিচির শব্দ রেকর্ড করেন। অচেনা এই পাখির আগমন সুন্দরগঞ্জের আকাশে রুপবৈচিত্র যোগ করেছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে পাখির কলকাকলি। এ যেন হারিয়ে যাওয়া প্রকৃতির সেই রুপ। পাখিগুলো যখন দলবেঁধে ডানা মেলে আকাশে উড়ে, তখন মনে হয় এযেন শিল্পির আঁকা ছবি এবং ক্যালেন্ডারের পাতা।
উপজেলা বনবিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলায় কোথাও বিশাল আকৃতির গাছ-ঘাছলা নেই বললে চলে। কিছু এলাকায় হাতেগোনা কয়েকটি বিশাল আকৃতির গাছ রয়েছে। সাধারনত শীত মৌসুমে এসব পাখি এসে কিছুদিন বসবাস করে চলে যায়। তবে বনবিভাগ অতিথি পাখি শিকারের অত্যন্ত সর্তক।